যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নিশ্চয়তা দিতে এবং ব্রিটেনকে একটি সফল ব্রেক্সিট চুক্তির পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির (ডিইউপি) সমর্থনে সরকার গঠন করবেন। সরকার গঠনে রানির অনুমতি নিতে বাকিংহাম প্যালেস যাওয়ার পর সেখান থেকে ফিরে মে বলেন, বেশির ভাগ আসন এবং ভোটে জয়ী হওয়ার পর এখন কেবলমাত্র তার পার্টিই ‘বৈধ’ সরকার গঠন করতে পারে।

মে বলেন, তিনি ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ডিইউপিতে ‘বন্ধু ও মিত্রদের’ সঙ্গে কাজ করবেন। কাজ শুরু করার আহ্বানও জানান তিনি। তবে ডিইউপি’র সঙ্গে মে কিভাবে কাজ করবেন সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলেননি। নির্বাচনের ফলে দেখা গেছে, টোরি সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৩২৬ আসনের চেয়ে ৮ টি আসন কম পেয়েছে।

টোরির এই আসন হারানো, ভোট হারানো এবং জনসমর্থন কমাকে যথেষ্ট উল্লেখ করে প্রতিপক্ষ লেবার নেতা জেরেমি করবিন এরই মধ্যে টেরিজা মে কে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “লেবার নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।” অন্যদিকে, লিব ডেম নেতা টিম ফ্যারনও বলেছেন, “মে’র লজ্জ্বা পাওয়া উচিত।” তিনি বলেন, “বিন্দু পরিমাণ আত্মমর্যাদা থাকলে তার পদত্যাগ করা উচিত।”

ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে শুরুতেই পার্লামেন্টে বিরধিতার মুখে পড়ে নিজ অবস্থান আরও দৃঢ় করতে এপ্রিলে হঠাৎ করেই আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন মে। আগাম নির্বাচনের কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেছিলেন, ব্রেক্সিট সামাল দেওয়ার মতো একটি নিশ্চিত, স্থিতিশীল ও শক্তিশালী সরকার প্রয়োজন। আর এখন নির্বাচনের পর আগের চেয়ে ১২ টি কম আসন নিয়ে অন্য দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠন করতে হচ্ছে তাকে।

বিবিসি বলছে, টোরির আসন শেষ পর্যন্ত দাঁড়াচ্ছে ৩১৯টি তে যা তাদের গতবারের চেয়ে ১২টি কম। অন্যদিকে লেবারের আসন বেড়ে দাঁড়াবে ২৬১ টিতে। গতবার ৫৪টি আসন জেতা স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির (এসএনপি) আসন কমে হচ্ছে ৩৫টি; অন্যদিকে, লিবারাল ডেমোক্র্যাটদের আসন পাঁচটি বেড়ে ১২টি হচ্ছে। ডেমক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি (ডিইউপি)পাচ্ছে ১০টি আসন।

এক্ষেত্রে টোরি আর ডিইউপি মিলে কমন্সে এমপি’র সংখ্যা দাঁড়াবে ৩২৯ জনে। মে এর আগে বলেছিলেন, ব্রেক্সিট আলোচনা শুরু হতে আর মাত্র ১০ দিন বাকী। এ সময়ে দেশে ‘স্থিতিশীলতা’ প্রয়োজন। ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি (ডিইউপি)’র সমর্থন পেতে মে কোনও ধরনের অনানুষ্ঠানিক সমঝোতার মধ্য দিয়েই আগাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

ডিইউপি এরই মধ্যে বৈঠক, আলোচনা চালাচ্ছে। দলটির এক সূত্র জানিয়েছেন, আলোচনা হয়েছে। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু স্থির হয়নি। কোনও চুক্তিতে পৌঁছানো নিয়ে আলোচনার সময় এখনও আসেনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য