মোঃ জাকির হোসেন,সৈয়দপুর(নীলফামারী) থেকেঃ সৈয়দপুর উপজেলার এক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রকাশ্যে গ্রামিন সড়কের অর্ধশত পুরোনো গাছ নির্বিচারে কর্তন করে বিক্রি  করেছেন বলে এলাকাবাসি সরকারের বিভিন্ন দফতরে বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। চেয়ারম্যান সরকার দলীয় হওয়ায় ভয়ে কেহ প্রতিবাদ না করলেও হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশের ভারসাম্য। তাই পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষ খাদকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যাবস্থা নেয়ার দাবি জানান সচেতন মহল।

এলাকাবাসি জানান, সৈয়দপুর উপজেলার ৪ নং বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হেলাল চৌধুরী শুক্রবার দুপুরে তার সঙ্গিদের নিয়ে তার এলাকার বিভিন্ন সড়কের প্রায় অর্ধশত বছরের পুরোনো গাছ গুলো কেটে নিয়ে যান। স্থানিয়দের অভিযোগ এলজিডি কর্মকর্তা সফিউল আজম এর যোগ সাজসে গাছগুলো কাটা হয়েছে।

রফিকুল ইসলাম নামে এক এলাকাবাসি বলেন, ওই ইউপির বড়দহ চান্দিয়ার ব্রিজ হইতে বিরেনের বাড়ির মোড় এবং ব্যংমাড়ি বাজার হইতে  দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের  দেবীগন্জ বাজার সড়কের দুই ধারের ১৩ টি মেহগনি, ইউক্যালিপটাস, শিশু মিলে প্রায় ৫০ টি গাছ নিধন করেন। পরে এ নিয়ে  প্রতিবাদ করলেও তিনি কোন কর্ণপাত করেন নি। উল্টো সরকার দলীয় প্রভাব দেখিয়ে আমাদের কোন শব্দ না করার হুমকি দেন। আর গাছ গুলো বিক্রি করে প্রায় অর্ধকোটি পকেটস্থ করেন এ চেয়ারম্যান।

গত মঙ্গলবার সরেজমিনে ওই এলাকাগুলো ঘুরে দেখা যায়, কাচা পাকা সড়ক গুলোর উভয় ধারে প্রায় ৫০ টি স্থানে কাটা গাছের চিহ্ন। শেকড়ের ওপরে গোড়াতে চালানো হয়েছে কড়াত। পরে ওই এলাকার আমীর আলীর সমিলে দেখা মেলে এ সকল কাটা গাছের গুড়ি। যা ৫ হতে ৬ ফুট বেড় এবং সম পরিমান উচ্চতায় প্রায় ১৫ টি গুড়ি।  আবারন ইউপি পরিষদের ভিতরেও কাটা গাছের গুড়ি দেখা যায়। এ নিয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান হেলাল চৌধুরীর সাথে কথা হলে। তিনি তার কক্ষে সাংবাদিকদের কাটা গাছের ছবি নেয়া ও রিপোর্ট প্রকাশ হলে সাংবাদিকদের নামে চাদাবাজির অভিযোগে মামলা দেবেন বলে হুমকি দেন। সৈয়দপুর উপজেলার স্থানিয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহি প্রকৌশলী সফিউল আজম বলেন, কাটা গাছ গুলো জব্দ করা হয়েছে। কি কারন দেখিয়ে গাছ গুলো কাটা হয়েছে তা তিনি এড়িয়ে যান। আর বিষয়টি সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেখবেন।

তবে ভিন্ন কথা বলেন সৈয়দপুর উপজেলার নির্বাহি কর্মকর্তা আবু সালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গাছ কাটার লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এটি বিক্রয়ে যথাযথ ব্যাবস্থা নেয়া হবে এবং কারা গাছ কেটেছে তা এলজিডি দেখবে।

এদিকে বৃক্ষ খাদকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থ হোক বা না হোক। অন্তত প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় গাছের যে উপকারি অবদান তা রক্ষায় প্রশাসনের কাছে গাছ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়ার দাবি জানান সচেতন মহল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য