দিনাজপুর সংবাদাতাঃ ৬ জুন মঙ্গলবার দিনাজপুর প্রেসক্লাব ভবনে কাহারোল উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ মোকছেদ আলী তার পুত্র সার, বীজ ও কীটনাশক ব্যবসায়ী বাবুল হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগ এনে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সাংবাদিক সম্মেলনের অশ্রু সজল চোখে তিনি বলেন এলাকায় আমার স্বনামধন্য পুত্র বাবুল হোসেনকে ব্যবসায়ীক প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত প্রতিবেদনে তিনি বলেন গত ১৫-৫-২০১৭ ইং তারিখে আমার পুত্র বাবুল হোসেন এলাকার মোকসেদ আলী দোকানের কর্মচারী রোহিদুল এর মোটর সাইকেলের পিছনে বসে কাহারোল থানায় ব্যবসায়ীক পাওনা টাকা উঠাতে যায়। টাকা না পেয়ে দিনাজপুর হয়ে রাত ১২টা দিকে ১৩ মাইলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলে নশিপুর জামতলীতে চা পান করার জন্য নামে। এ সময় রহিদুল চায়ের সাথে কিছুএকটা মিশিয়ে দিলে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থ অবস্থায় রহিদুলের মোটর সাইকেলে পিছনে বসে বাড়ীর দিতে রওয়ানা দিলে সে লক্ষ্য করে যে তাদের পিছনে ২টি মোটরসাইকেল তাদের অনুসরন করছে। কিছুক্ষণ পর বাবুল একটি বিকাট শব্দ শুনতে পায় তার পর সে কিছু বলতে পারে না।

এলাকার লোকজন বাবুলকে এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে এবং আমাদের খবর দেয়। আমরা ছুটে এলে হাসপাতালের চিকিৎসকরা উন্নতমানের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করে। আমরা তাকে দিয়ে ঢাকায় যাই এবং পিজি হাসপাতালে ভর্তি করি। পরে চিকিৎসকরা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করতে বললে তাকে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হলে সে ১৮/৫/২০১৭ইং ভোট ৪টায় মারা যায়। হাসপাতালে জ্ঞান থাকা অবস্থায় তার স্ত্রীকে সেদিনকার ঘটনার কথা জানিয়েছিল।

রহিদুল ঐ দিন বাবুলকে ফেলে রেখে মোটর সাইকেল নিয়ে চলে আসে এবং এলাকায় প্রচার করে যে, বাবুল সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে। আমরা প্রথমে তার কথা বিশ্বাস করে ঢাকা থেকে লাশ এনে দাফন করে ফেলি। পরে বাবুলের স্ত্রীর নিকট প্রকৃত বিষয়টি জানতে পেরে আদালতে মামলা দায়ের করি এবং লাশ ময়না তদন্তের জন্য আবেদন করি। আদালত তদন্তের জন্য মামলাটি কোতয়ালী থানায় প্রেরণ করে।

এ সংবাদ হত্যাকারীরা জানতে পেরে লোক মারফত ও বিভিন্নভাবে আমাদেরকে হুমকি দিয়ে জানায় যে, আমরা বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে বাবুলের লাশ নষ্ট করে ও কবর থেকে গায়েব করে দেব। সেই ভয়ে সেদিন থেকে আমরা প্রতি রাতে কবর পাহাড়া দিয়ে আসছি। তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন আমার বিশ্বাস বাবুলের লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্ত করলে প্রমাণ পাওয়া যাবে যে, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি সহ তার স্ত্রী এবং বাবুলের স্ত্রী ও ছেলে মেয়েরা বলেন যে, বাবুলের হত্যাকারী আসামীরা কোনভাবে যাতে আইনের ফাঁক দিয়ে বেড়িয়ে যেতে না পারে। আমি বাবুলের হত্যার বিচার প্রার্থনা করছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য