হাকিমপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতাঃ দিনাজপুরের হাকিমপুরে মেহেদীর রং মুছতে না মুছতেই যৌতুকের বলি হতে হলো উম্মে কুলছুমা (২০) নামে এক নববধুকে।  ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাতে উপজেলা সদরের চন্ডিপুর মহল্লায়।

জানা গেছে, গত তিন মাস আগে উপজেলার চন্ডিপুর মহল্লার আব্দুল লতিফের ছেলে সাজ্জাদ হোসেনের সঙ্গে জেলার বিরামপুর উপজেলার ধানগড়া ব্যাপারীতলা গ্রামের আফতাব উদ্দিনের মেয়ে কুলছুমার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। এ বিয়েতে এক লক্ষ টাকা যৌতুক নির্ধারণ করা হয়। যৌতুকের টাকা নগদ দিতে না পারায় বিয়ের পর থেকে প্রায় দিন যৌতুক লোভী সাজ্জাদসহ পরিবারের সদস্যরা কুলছুমার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালতেন।

সোমবার রাতে স্বামী সাজ্জাদ শাশুড়ী রোকছানা ও ননদ আয়েশা গৃহবধু কুলছুমাকে যৌতুকের দাবিতে পিটিয়ে হত্যা করেন। এরপর তারা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে দাবি করে গৃহবধুকে হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। এসময় কর্তব্যরত ডা. তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওই সময় কর্তব্যরত ডা. ওয়াসিব উদ্দিন বলেন, গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যুর কোন আলামত পাওয়া যায়নি। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের ‎চিহ্ণ রয়েছে।

মেয়ের পিতা আফতাব উদ্দিন জানান,  বিয়ের পর থেকই সাজ্জাদ যৌতুকের দাবিতে প্রায় মেয়েকে মারধর করে আসছিল। শেষ পর্যন্ত তারা আমার মেয়েটাকে মেরেই ফেলল। আমি ওদের ফাঁসি চাই। মেয়ের মামা জলিল বলেন, তাদের দাবিকৃত যৌতুকের টাকা দিতে দেরি হওয়ায় তারা প্রাই আমার ভাগনীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালাতেন।

হাকিমপুর থানা ওসি আব্দুস সবুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,  এ ব্যাপারে মেয়ের পিতা আফতাব উদ্দিন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামল দায়ের করেছেন। স্বামী সাজ্জাদ ও শাশুড়ী রোখছানাকে আটক করা হয়েছে। এবং অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য