আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকে: ‘বঙ্গবন্ধুকে যদি পেতাম, তাহলে মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়াতাম। আজ বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু রেখে গেছেন তার লাল সবুজ পতাকা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হতে বর্তমান প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানাতে সেই পতাকা রিকশায় বসিয়ে দেশ ঘুরছি।’ কথাগুলো বললেন কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার দক্ষিণ বলদিয়া গ্রামের আ. গফুরের ছেলে রিকশাচালক শাহীন মিয়া।

লালমনিরহাট শহরের হাড়িভাঙ্গা এলাকায় পৌঁছে শাহীনের ‘নৌকা রিকশা’। ২৫ মার্চ রাতে গাজীপুর থেকে যাত্রা শুরু করেন তিনি। কিশোর বয়স থেকে তিনি রিকশাচালক হিসেবে গাজীপুর-চেরাগআলী রোডের একটি ভাড়া বাসায় ছেলেমেয়ে এবং স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছেন। শাহীন বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো দেশপ্রেমিক হয়ে গড়ে তোলা লক্ষ্য তার। ছোটবেলায় বঙ্গবন্ধুর দেশপ্রেমের গল্প তাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। দেশের মানুষের জন্য জীবন বাজি রেখে সংগ্রাম, কারাভোগ, জুলুম-অত্যাচার মেনে নিয়েছেন বঙ্গবন্ধু।

যে লোকটির জন্য আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, সেই মহামানুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্য কিছু করার ইচ্ছা থাকলেও সামর্থ্য নেই আমার। অভাবের সংসারে লেখাপড়া করার সুযোগ না হওয়ায় কিশোর বয়স থেকে রিকশা হাতে তুলে নেই। কুড়িগ্রাম থেকে চলে আসি গাজীপুরে। অভাবের সংসারে রিকশা চালিয়ে সামান্য পরিমাণ প্রতিদিন সঞ্চয় করি বঙ্গবন্ধুর জন্য।শাহীন বলেন, সঞ্চিত অর্থ যখন ৪৫ হাজার টাকায় দাঁড়ায় তখন আমি একটি ‘নৌকা রিকশা’ তৈরি করি। পুরো রিকশাতে বঙ্গবন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রীর ছবি। রিকশার ছাদে বড় নৌকা, ৩ চাকার ওপরে তিনটি ছোট নৌকা ও যাত্রীর সিটে বঙ্গবন্ধুর লাল সবুজের পতাকা। মাথার টুপিতে বড় নৌকা।
এ বেশে পুরো দেশ ঘুরব। বিশেষ এ নৌকা রিকশা দেখলে উৎসুক জনতা আমাকে দাঁড় করাবে। তখনই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আর দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাব। একজন লোক বঙ্গবন্ধুর মতো দেশ প্রেমিক হলেই আমার পরিশ্রম ও স্বপ্ন সার্থক হবে। তাই দেশ ঘোরার পরিকল্পনা আমার।২৫ মার্চ জাতির জন্য অভিশপ্ত একটি রাত, তাই এই রাতেই বঙ্গবন্ধুর আলোর বার্তা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছাতে রিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হই। সারাদেশে না ঘোরা পর্যন্ত বাড়ি ফিরব না।আওয়ামী লীগের কোনো পদে আছেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কোনো দলকে নয়, বঙ্গবন্ধুকে রিকশায় নিয়ে ঘুরছি। লাল সবুজের পতাকার মধ্যেই তিনি (বঙ্গবন্ধু) লুকিয়ে আছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য