ইরাকের মসুলে ইসলামিক স্টেট (আইএস) নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে এখনও প্রায় এক লাখ শিশু চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে আটকা পড়ে আছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে আরও জানায়, আইএস জঙ্গিরা শিশুদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।

লড়াইয়ের সময় গোলাগুলির মধ্যে পড়েও  শিশুরা মারা যাচ্ছে। অনেক শিশুকে লড়াইয়ে অংশ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। আমরা পশ্চিম মসুল থেকে উদ্বেগজনক খবর পাচ্ছি। সেখানে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করা হচ্ছে, যাদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। এমনকি আমরা এমন খবরও পেয়েছি, পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, রয়টার্স টিভির এক কর্মী শনিবার মসুলের আইএস নিয়ন্ত্রিত যুদ্ধ বিক্ষুব্ধ এলাকায় সড়কে অনেক বেসামরিক নাগরিকের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেছে, যাদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে।

ওই কর্মী বলেন, মৃতদেহগুলো অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় তাদের হত্যা করা হয়। জানুয়ারিতে আইএসকে হটিয়ে মসুলের পূর্বাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেয় ইরাকের সেনাবাহিনী। যদিও পশ্চিম মসুলের কিছুকিছু এলাকা এখনও আইএসর নিয়ন্ত্রণে। সেগুলো পুনরুদ্ধারে ২৭ মে থেকে নতুন করে অভিযান শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সমর্থনে গত বছর অক্টোবর থেকে মসুলে অভিযান শুরু করে ইরাকের সেনাবাহিনী। আইএস জঙ্গিরা বেসামরিক নাগরিকদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করায় অভিযান শেষ হতে ধারণার চেয়ে বেশি সময় লাগছে। অভিযান শুরুর পর মসুল থেকে প্রায় সাত লাখ মানুষ পালিয়ে গেছে।

ইউনিসেফের পক্ষ থেকে বলা হয়, “বেসামরিক নাগরিক এবং হাসপাতাল, ক্লিনিক, স্কুল, বাড়ি, পানির উৎসসহ সব ধরনের বেসামরিক স্থাপনায় হামলা দ্রুত বন্ধ করা উচিত।”

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য