দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার পুনর্ভবা নদী ও ঢেপা নদীতে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে অবাধে ধরা হচ্ছে বিভিন্ন জাতের ছোট ছোট মাছ।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মুক্ত জলাশয়, খাল-বিল, নদী-নালা, মৎস্য সম্পদে ভরপুর ছিল। কিন্তু কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহারের ফলে দিন দিন মুক্ত জলাশয়, খাল-বিল, নদী-নালা মৎস্য শুন্য হয়ে পড়ার কারণে সর্বত্রই যেন মাছের আকাল।

অতি ক্ষুদ্র ফাঁসে এই জালের ফাঁদ দিয়ে মৎস্য প্রজাতির কোন পোনাই যেন রক্ষা পাচ্ছে না। দিনের পর দিন এই নিষিদ্ধ জাল দিয়ে অসাধু জেলেরা ছোট ছোট মাছ ধরছেন অবলীলায়। তাই ডিমওয়ালা পাঙ্গাস, টেংরা, মাগুর, কৈ, বাইলা, সাটি, পুটি, মহুকা ছাড়াও রয়েছে এখানে হরেক রকম প্রজাতির মাছ।

মৎস্য আইন অমান্য করে অবৈধভাবে নির্বিচারে কারেন্ট জাল ব্যবহার করে বিভিন্ন জাতের ডিম ওয়ালা মাছ নিধন চলছে। মৎস্য আইনে কারেন্ট জাল, বাধা জাল, চটকা জালসহ ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহার করে পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ নিধন নিষিদ্ধ থাকলেও আইনকে তোয়াক্কা না করে পোনা মাছসহ ডিমওয়ালা মাছ নিধনের মহোৎসব চলছে এই এলাকায়।

অসাধু মৎস্যজীবিরা এসব পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে অবাধে বিক্রি করছে। সেই কারণে মাছের বংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে না। ২০০৫ সালে মৎস্য আইন সংরক্ষন আইনে আদালত কারেন্ট জাল উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণা করেন।

অথচ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে এই কারেন্ট জাল। উপজেলার ২টি নদীতে বেশীর ভাগ জেলে কারেন্ট জাল ব্যবহার করেই মাছ শিকার করছে। সুতার জালের চেয়ে কারেন্ট জালের দাম অনেক কম হওয়ায় এর ব্যবহারে বেশী আগ্রহী জেলেরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জেলে জানান, ১পাউন্ড কারেন্ট জাল ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা অথচ সুতার জালের দাম প্রায় তিন গুণ। এই জন্য কারেন্ট জাল দিয়ে আমরা মাছ ধরি। হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় কারেন্ট জাল।

উপজেলার চারিদিকে যেহেতু নদী তাই চারিদিকের বাজারগুলোতেও খুব সহজেই পাওয়া যাচ্ছে কারেন্ট জাল। কাহারোল উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আকতারুজ্জামান বলেন, কারেন্ট জাল বন্দ এবং সুতার জাল ব্যবহারের ব্যাপারে আমরা জেলেদের উদ্বদ্ধ করে থাকি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য