ঘোড়াঘাট, দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ ২১ জ্যৈষ্ঠ রোববার বাংলা ১৪২৪ মোতাবেক ৪ জুন ২০১৭ ইং  যথাযথ মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনাজপুর ঘোড়াঘাটের ঋৃষিঘাট হিন্দু ধর্মালম্বীদের দশহারায় করতোয়া পূণ্য স্নান ও মেলা। বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার সর্ব দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত করতোয়া বিধৌত ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ছোট্ট উপজেলা যার নাম ঘোড়াঘাট। তিস্তাবাহিত পাললিক ভূমি ও বরেন্দ্র অঞ্চলের সমন্বয়ে সমগ্র ঘোড়াঘাট উপজেলা বিভক্ত। প্রতি বছর গ্রীষ্মের জৈেেষ্ঠর শুল্কা পক্ষের দশমী তিথিতে মৃতপ্রায় করতোয়ার উপনদী মহিলার সঙ্গমস্থলে হিন্দু ধর্মালম্বীদের হাজার হাজার ভক্ত প্রাণ পূণ্য স্নানার্থে আগমন করেন ঘোড়াঘাটের ঋষিঘাটে।

গাইবান্ধা পলাশবাড়ী উপজেলা সদর হতে প্রায় ৯/১০ কি.মি. দূরে পলাশ বাড়ী উপজেলার ১ নং কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ী বাজার সংলগ্ন পশ্চিমে, ঘোড়াঘাট হাজীঘাট হতে প্রায় ৩ কি.মি. উত্তরে, ঘোড়াঘাট রাণীগঞ্জ-বিরাহিমপুর কাচারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে প্রায় ৩ কি.মি. পূর্বে এবং রংপুর পীরগঞ্জ ঐতিহাসিক চতরা হাট থেকে সাতপাড়া-গোলবাড়ী করতোয়া খেয়াঘাট পার হয়ে প্রায় ৩ কি.মি.দক্ষিণে এ ঋৃষিঘাট অবস্থিত।

হিন্দু ধর্মালম্বী ভক্ত গণের বিশ্বাস-দশহারায় করতোয়া নদীর স্নান খুবই পূণ্যের। স্নানে ব্রক্ষ্মা সন্তুষ্ট লাভ করে পাপ মোচন হয়। এ বিশ্বাস নিয়েই সুদীর্ঘ কাল ধরে এ স্নানে অংশ নেয়ার জন্য ভারত উপমহাদেশের (পাকি¯তান, ভারত ও বাংলাদেশ) বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য ভক্তরা আসেন ঘোড়াঘাটের ঋৃষিঘাটে। এ কারনে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট এর পাশ্ববর্তী হাকিমপুর (বাংলা হিলি) ও নবাবগঞ্জ, জয়পুর হাটের পাঁচবিবি, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ এবং রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যস্ত অঞ্চল সমূহু হয়ে ওঠে মহা মিলন কেন্দ্র।

পাপ শৃঙ্খলের এ উৎসবে ওই সব প্রত্যন্ত অঞ্চল হতে আগত হাজার হাজার ধর্ম প্রান ভক্তরা সমবেত হয় ঋৃষিঘাটে। পূণ্য স্নান সহজে সম্পন্ন হওয়ার জন্য সরকারী উদ্যোগে স্নান ঘাট নির্মিত হয়েছে। এ পূণ্য স্নান উপলক্ষে ঋৃষিঘাটের প্রায় ১ বর্গ কি.মি. তীর্থ স্থানটি বিভিন্ন বয়সের ধর্মপ্রাণ ও পূর্ণার্থী ভক্তদের কল-কোলাহলে মুখরিত হযে ওঠে। স্নান সম্পন্ন করার পর কেন্দ্রীয় মন্দিরে গঙ্গা পূঁজা ও ষষ্ঠী পূঁজা অনুষ্ঠিত হবার পর প্রসাদ বিতরণ হয়।

বিভিন্ন ফলের মধ্যে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, লটকন, দই, চিড়া, মুড়ি ভক্ষণ করেন ভক্তরা। এক দিনব্যাপী মেলায় হিন্দু ধর্মালম্বী ছাড়াও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজনের মেলায় আগমন ঘটে । এ মেলায় তালপাখা, ঘুড়ি, শিশু খেলনা, লোহার তৈরি তৈজষ পত্র, বিভিন্ন প্রকার মসলা ও মিষ্টান্ন দ্র্রব্য ক্রয় করেই তবে ঘরে ফেরার পালা। কিন্তু সাধারন মানুষ সে খবর রাখে না; তারা শুধু জানেন ঋৃষিঘাট একটি পবিত্র তীর্থস্থান। গ্রীস্মকালের শুল্কাপক্ষের দশমী তিথিতে জগতের সকল পবিত্র স্থানের পূণ্য করতোয়ায় মিলিত হয়।

করতোয়া নদীর জল ষ্পর্ষ মাত্রই সকলের পাপ মোচন হয় ইহা হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা বিশ্বাস করেন। যে এ  পবিত্র জলে স্নান করে সে চিরমোক্ষম লাভ করে; এর বেশি কিছু তারা জানেন না। জানতেও চান না। এ মহা পবিত্র উৎসবে যোগদানকারী পূণ্যার্থীরা এ বিশ্বাসটুকু রেখেই যুগ যুগ ধরে নিষ্ঠার সাথে পূণ্য স্নান করে আসছেন। এ গঙ্গা পূঁজা ও মণসা পূজাসহ স্নান উপলক্ষে এ বারণী মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য