আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ সরকারি প্রজ্ঞাপনের নীতিমালা উপেক্ষা করে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় সরকারি ৮৪টি, প্রথম ধাপে জাতীয়করণ ১২০টি, দ্বিতীয় ধাপে ৭টি ও তৃতীয় ধাপে অলিখিত ২৪টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এরমধ্যে দ্বিতীয় ধাপের ৭টি বিদ্যালয়ের জাতীয়করণ করা হয়। তৃতীয় ধাপের ৬টি বিদ্যালয় জাতীয়করণের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বাকীগুলো জাতীয়করণের অপেক্ষায় আছে। জাতীয়করণসহ অলিখিত ২৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিদ্যালয় গুলোতে নেই ছাত্র-ছাত্রী। না আছে যাতায়াতের সুগম পথ-নেই বিদ্যালয়ের দৃশ্যমান কোন জমি। খোলা মাঠের মধ্যে রাতারাতি টিনের ঘর তুলে দেখানো হয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। রাতের আঁধারে এসব ঘর তুলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক নিয়োগ করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, বিদ্যালয় গুলোর প্রতিষ্ঠাকালীন আবেদনে একেক সময় একেক কাগজপত্র দাখিল করা ছাড়াও দলিল সংক্রান্ত কাগজপত্র সমূহ অধিকাংশ ভূয়া দাখিল করা হলেও স্ব-স্ব ক্লাষ্টারের উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিস যাচাই-বাছাই না করেই মোটাঅংকের উৎকোচের মাধ্যমে সুপারিশ করে প্রেরণ করেন সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দপ্তরে।

এসব বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান না করা হলেও ওই সময় তড়িঘড়ি ঘর তুলে ২০১০ সাল অথবা তারও আগে প্রতিষ্ঠা দেখিয়ে উপজেলায় জাতীয়করণসহ অলিখিত ভাবে ২৪টি বিদ্যালয় হঠাৎ গজিয়ে ওঠা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অস্তিত্ব এখন কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ।

একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারি প্রজ্ঞাপনে যেসব নীতিমালা রয়েছে তার সামান্যতম কোন প্রক্রিয়া না মেনেই কেবলমাত্র শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেখানো হয়েছে। উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লী এলাকায় ওইসব চিহ্নিত প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলো জাতীয়করণের প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

কতিপয় শিক্ষক, স্থানীয় দালালচক্র এবং প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দূর্ণীতিবাজ কর্মকর্তার যোগসাজসেই এই অপকর্মটি চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।  শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি দ্বিতীয় ধাপের ৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছে। ওইসব বিদ্যালয় গুলোর শিক্ষকদের বেতন বিল ছাড় করানোর সময় তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত), প্রধান অফিস সহকারী ও অফিস সহকারীসহ কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মোটাঅংকের উৎকোচ গ্রহণ করার ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, তৃতীয় ধাপের ৬টি বিদ্যালয়ের জাতীয়করণের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তন্মধ্যে  একটি নজির বিহীন ঘটনা হলো প্রস্তাবিত আন্দুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি খাস খতিয়ানভূক্ত ১২ শতক জমির ভূয়া দাতা সেজে একটি (ভূয়া দলিল নং-৩২২৮, তাং- ২৬/০৬/২০১১) মূলে ৬৭৪ দাগের জমি দেখানো হলেও (খারিজ কেস নং-৭০/৯৯-২০০০) ভূয়া প্রমাণিত হয়।

বিভিন্ন সময়ে একাধিক তদন্ত প্রতিবেদনে বিদ্যালয়টি ভূয়া বলে প্রমাণিত হলেও এবং গাইবান্ধার বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় অদৃশ্য কারণে সকল ঘটনার সত্যতা গোপন করে উপজেলা শিক্ষা যাচাই-বাছাই কমিটি মোটাঅংকের টাকার বিনিময়ে বিদ্যালয় স্থাপনে সুপারিশ করেন।

বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত করা নিয়ে বিভিন্ন দাগ উল্লেখ পূর্বক ৩টি ভৌতিক দলিল সম্পাদন করা হলেও বর্তমানে বিদ্যালয়টি খাস খতিয়ানভূক্ত জমিতেই রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও শিক্ষকদের বেতন বিল ছাড় করণে উপজেলা শিক্ষা অফিসের কতিপয় দূর্ণীতিবাজ সিন্ডিকেটের মধ্যে বেশ তোরজোর চলছে।

তৃতীয় ধাপের বাকী বিদ্যালয় গুলো জাতীয়করণে উপজেলা শিক্ষা যাচাই-বাছাই কমিটির সুপারিশের জন্য এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উপজেলা শিক্ষা অফিসের গোপন তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ওইসব বিদ্যালয় গুলো জাতীয়করণে তিনি কোন সুপারিশ করেননি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল্লাহিশ শাফী বলেন, সরকারি নীতিমালা মেনেই বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের সুপারিশ করা হবে।

সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে ওইসব বিদ্যালয় গুলো স্থাপন ও অনুমোদনের নেপথ্যে জড়িত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এলাকার সচেতনমহল যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য