কড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার সুপরিচিত সবার প্রিয় ওস্তাদ মোজাফফর হোসেন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসার অভাবে বাড়িতেই মৃতুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। তিনি নাগেশ্বরীর সঙ্গীত জগতে ওস্তাদ হিসেবেই বেশি পরিচিত এবং নাগেশ্বরী কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুল আলম আসাদ মীর এর বাবা। মোজাফফর ওস্তাদের বাল্যজীবন কাটে ভারতে। ১৯৭২ সালের দিকে তিনি বাংলাদেশে এসে নাগেশ্বরী উপজেলার প্রত্যন্ত ইউনিয়ন  নারায়ানপুর বালার হাটে স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করেন।

এর পর নাগেশ্বরীতে ১৯৮০ সালে প্রথম অবস্থান করে জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী, নজরুল গভেষক ও বাংলাদেশ বেতার রংপুরের নিয়মিত কন্ঠশিল্পী সুব্রত কুমার ভট্টাচার্যের গ্রাম চৌবাড়ী পয়ড়াডাঙ্গায়। সেখান থেকে তাঁর প্রতিভার বিকাশ শুরু। গানের জগতে তার প্রথম প্রবেশ র্কীতন গান দিয়ে। সে সময় তিনি প্রায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে র্কীতন গান করে বেড়াতেন। বিনিময় পেতেন ২০ টাকা। হয়ত এক বেলা  খাবার।

মোজাফফর ওস্তাদের সম্পর্কে সুব্রত ভট্রাচার্য বলেন হিন্দুরা  তাকে র্কীতনের জন্য অসম্ভব শ্রদ্ধা করতেন এবং তার র্কীতন শুনার জন্য অনেক দুর হতে নারী পুরুষ ছুটে আসতেন। তার কাছে হিন্দু মুসলমান ভেদাভেদ ছিলনা। মোজাফফর ভাইয়ের কোন তুলনা হয় না। ভাওয়াইয়া কন্ঠশিল্পী শফি জানায় মোজাফফর ওস্তাদ প্রায় ১ হাজার গান মুখস্ত বলতে পারেন এবং একই মঞ্চে একটানা ২০টি গান গাইতে পারেন। পরবর্তী সময়ে মোজাফফর ওস্তাদ নাগেশ্বরীতে অসংখ্য শিল্পী তৈরী করেছেন।

বর্তমানে পৌরসভার খ্যারবাড়ী স্কুলের পাশে অবস্থান করছেন। ভিষণ অসুস্থ শরীরে শুধু মাত্র হার কয়টা দেখা যায়। করুন অবস্থা। কোমর ভেঙ্গে পরে আছে। রেনেসাঁ স্কুলের  অধ্যক্ষ ও  প্রভাষক রেজাউল করিম রেজা বলেন মোজাফফর ওস্তাদ র্কীতন ছারাও তিনি ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালী, জারি, সারি, লালন, গজল, হিন্দি, উর্দু ফার্সি, ভাষায় গান গেয়ে তিনি দর্শকদের মাতিয়ে তুলতেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য