মার্কিন সরকার ঐতিহাসিক প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়া সত্ত্বেও রাশিয়া ওই চুক্তির প্রতি সমর্থন জানানো অব্যাহত রাখবে বলে মস্কো ঘোষণা করেছে।

রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আরকাদি ভোরকোভিচ বলেছেন, চুক্তিটি থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দেশকে বের করে নেয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সে কারণে মস্কো এই পৃথিবী রক্ষার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাবে না।

তিনি শুক্রবার সেন্ট পিটার্সবার্গে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের অবকাশে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা ওই চুক্তিতে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং সে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছে আমাদের নেই।”

রাশিয়ার আগে বিশ্বের অন্যান্য দেশও তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার হাত থেকে ভূপৃষ্ঠকে রক্ষা করতে প্যারিস জলবায়ু চুক্তির প্রতি অনুগত থাকতে নিজেদের প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছে। জার্মান চ্যান্সেল অ্যাঙ্গেলা মার্কেল ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ‘গভীর দুঃখ’ প্রকাশ করেছেন।  একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, যারা নিজেদেরকে এই গ্রহকে রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মনে করে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত তাদেরকে আটকাতে পারবে না।

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জিন ক্লদে জাঙ্কার ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ইইউ-চীন শীর্ষ সম্মেলনে বলেছেন, তারা বিশ্বকে রক্ষার চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবেন। ইতালি, কানাডা ও ফ্রান্সের শীর্ষ নেতারাও একই ধরনের অভিমত প্রকাশ করেছেন।

২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত প্যারিস চুক্তিতে অ্যামেরিকাসহ আরো ১৮৭টি দেশ মিলে অঙ্গীকার করেছিল যে, তারা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম রাখবে; এমনকি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি নামিয়ে আনতে চেষ্টা করবে।

কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।  তিনি দাবি করেন, এই চুক্তির কারণে অ্যামেরিকার জিডিপিতে ৩ ট্রিলিয়ন ডলার ক্ষতি হবে এবং চাকুরি হারাবে প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ২০১৫ সালে প্যারিস চুক্তি হওয়ার সময় ওবামা সামনে থেকে এটিকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য