চিরিরবন্দরে ফেন্সিডিলসহ লিচুর খাঁচাভর্তি ট্রাক ও ১ জনকে আটক করেছে থানা পুলিশ। থানা সুত্রে জানা গেছে বুধবার দিবাগত রাত ৯ টায় লিচুর খাঁচাভর্তি একটি ট্রাক ফেন্সিডিল নিয়ে ঢাকা যাওয়ার সময় থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ মোঃ হারেসুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ গোপন সংবাদ পেয়ে উপজেলার পুনট্রি ইউনিয়নের আমতলি বাজারে দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে ফেন্সিডিলসহ লিচুর খাঁচাভর্তি বগুড়া ড ১১-১৫১০ নম্বর একটি মিনি ট্রাক আটক করে।

এ সময় লিচুর দু’জন মালিক পালিয়ে গেলেও ওই ইউনিয়নের তুলশীপুর গ্রামের আমির আলী মেম্বারের ছেলে মসলেম আলী(৩৫) ও একই এলাকার মজনু রহমানের ছেলে ইউনুস আলী(৩২) এবং ট্রাক চালক বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর উপজেলার চকমোড়া এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে বেলাল হোসেনকে(২৫) থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। রাত ১০ টায় দিনাজপুর জেলা পরিষদের সদস্য মোস্তাফিজার রহমান ফিজারসহ উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে একটি লিচুরখাঁচা খোলা হলে ৯ বোতল ফেন্সিডিল পাওয়া যায়।

ওই সময় ট্রাক চালকের কাছে খাঁচার সংখ্যা ও ঘটনা জানতে চাইলে সে জানায়, ট্রাকে ৯৭টি খাঁচা রয়েছে। লিচুর মালিকরা বাগান থেকে খাঁচা করে এনে ট্রাকের কাছে আনলে লেবার লোড করেছে। লিচুগুলি গাজীপুরের চৌরাস্তায় যাচ্ছিল। ট্রাকের হেলপার সৈকত (১৩) জানায়, মেহেদি ও আশেকুর নামে দুজন ছেলে ওই খাঁচায় লতিফ নাম লিখে বেশ কয়েকটি খাঁচা লোড করেছে।

আটককৃত মসলেম ও ইউনুস জানায় প্রতিদিন আমতলি থেকে ৪/৫ ট্রাক লিচুর খাঁচা লোড করা হয়। আমরা সেগুলো তদারক করি। খাঁচায় ফেন্সিডিলের বিষয়ে আমরা কিছু জানিনা। থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) হারেসুল ইসলাম সত্যতা স্বীকার করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই লিচুর খাঁচাভর্তি ট্রাকটি, চালককে আটক করে ও হেলফার নাবালক হওয়ায় তাকে সাথে করে থানায় আনা হয়। একটি খাঁচা খুলে ৯ টি ফেন্সিডিলভর্তি বোতল পাওয়া গেছে।

এ ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। রাতে লেবার না থাকায় সব খাঁচাগুলি আনলোড ও খোলানো সম্ভব হয়নি। ভোরে লিচুর খাঁচার মালিকগণ এসে নিজ নিজ খাঁচা খুললেও কোন ফেন্সিডিলের বোতল পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় চালক ও লিচুর মালিক গাজীপুরের চৌরাস্তার লতিফ নামে দু’জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উল্লেখ্য আমতলি বাজারটি ভারতীয় সীমান্তবর্তি হওয়ায় প্রতিদিন শতশত বোতল ফেন্সিডিল, ইয়াবা ওই বাজার হতে দেশের স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সরকারী দলের একটি অঙ্গ সংগঠনের পদবীধারী নেতারা এ ব্যবস্যাটি নিয়ন্ত্রন করছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ জনগণ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য