বোমা আছে বলে চিৎকাররত এক যাত্রী ককপিটে ঢোকার চেষ্টাকালে সহযাত্রীরা তাকে ধরে ফেলার পর মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়। বুধবার রাতে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন থেকে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর অভিমুখে রওনা হওয়ার অল্প সময় পরই এ ঘটনা ঘটে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। ২৫ বছর বয়সী শ্রীলঙ্কার ওই নাগরিককে সিটবেল্ট দিয়ে বেঁধে ফেলার পর উড়োজাহাজটি ফের মেলবোর্নে ফিরে গিয়ে জরুরি অবতরণ করে।

এ ঘটনার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোনো যোগসূত্র নেই ধারণা প্রকাশ করে অস্ট্রেলীয় পুলিশ জানিয়েছে, মানসিক অসুস্থতার কারণে ওই যুবক এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তারা মনে করছেন।  ওই ব্যক্তির বহন করা একটি ডিভাইস, ‍যাকে সে বোমা বলে দাবি করেছিল, একটি ব্লুটুথ স্পিকার ডিভাইস বলে জানিয়েছে পুলিশ। মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ওই ফ্লাইট, এমএইচ১২৮-র যাত্রী আরিফ চৌধুরি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, উড্ডয়নের প্রায় ৩০ মিনিট পর এক পুরুষ যাত্রী এক নারী কেবিন ক্রুকে আক্রমণ করে, ওই নারী তখন সাহায্য চেয়ে চিৎকার করে।

‘কিছু যাত্রী ও কয়েকজন ক্রু ওই ব্যক্তিকে জাপটে ধরে মেঝেতে চেপে ধরে। আমরা খুব ভাগ্যবান। এই ঘটনা আরো খারাপ হতে পারত,” বলেন আরিফ।  সিটবেল্ট দিয়ে ওই ব্যক্তির হাত বেঁধে ফেলা হয় হয় বলে জানান তিনি। মেলবোর্ন বিমানবন্দরে অবতরণের পর আর্মড পুলিশ উড়োজাহাজটিতে উঠে ওই ব্যক্তিকে তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়। মানসিক হাসাপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সে একটি টিকেট কিনে উড়োজাহাজটিতে চেপে বসে বলে জানা গেছে। হুমকি দেওয়া, মিথ্যা বিবৃতি ও একটি উড়োজাহাজের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগ এনে ওই ব্যক্তিকে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হবে।

ওই বিমানটির যাত্রীদের অন্য একটি ফ্লাইটে কুয়ালালামপুর পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ। তবে এর আগে উড়োজাহাজের যাত্রীদের সব ব্যাগ নতুন করে পরীক্ষা করে অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ। ২০১৪ সালের পর থেকে একের পর এক বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স। ওই বছর এয়ারলাইন্সটির এমএইচ৩৭০ ফ্লাইটটি ২৩৯জন যাত্রী নিয়ে কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিং যাওয়ার পথে  নিখোঁজ হয়। বিশ্বের অন্যতম বড় তল্লাশি অভিযান চালিয়েও ওই উড়োজাহাজ বা তার যাত্রীদের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

ধারণা করা হয়, উড়োজাহাজটির পাইলট সচেতনভাবে ফ্লাইটটিকে তার পথ থেকে ঘুরিয়ে দক্ষিণ ভারত মহাসাগারের কোথাও নিয়ে গিয়ে সমুদ্রে বিধ্বস্ত করে দেন। তবে এ ধারণার পক্ষে প্রত্যক্ষ কোনো প্রমাণ নেই।  ওই ঘটনার চার মাস পর আমস্টারডাম থেকে কুয়ালালামপুর ফেরার পথে এমএইচ১৭ নামের এয়ারলাইন্সটির আরেকটি উড়োজাহাজ দক্ষিণ ইউক্রেনের বিদ্রোহ কবলিত এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায়ও বিমানটির সব যাত্রী ও ক্রু নিহত হন

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য