বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মামলায় ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা এল কে আদভানি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী উমা ভারতী ও মুরুলি মনোহর যোশির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ গঠন করেছে ভারতের একটি আদালত। মঙ্গলবার ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের লক্ষ্ণৌর বিশেষ সিবিআই আদালত তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০ ধারায় অভিযোগ গঠন করে, জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা। এনডিটিভি জানিয়েছে, এই অভিযোগ গঠনের বিরোধীতা করে আদভানিরা দাবি করেন, বাবরি মসজিদ ধ্বংসে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না বরং তারা এতে বাধা দিয়েছিলেন, কিন্তু আদালত তাদের আর্জি খারিজ করে দেয়।

এই আদালতে শিগগিরই আদভানিদের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হবে। সিবিআই আদালতকে দুই বছরের মধ্যে এই মামলা শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। তবে আদালতের দৈনিক শুনানিতে তাদের হাজির থাকতে হবে না। তবে এদিন বিজেপির এই তিন প্রবীণ নেতাসহ এ মামলায় অভিযুক্ত আরো বেশ কয়েকজন আদালতে হাজির ছিলেন। এই নিয়ে এই মামলায় গত ২৫ বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো আদালতে উপস্থিত হলেন বর্তমানে ৮৯ বছর বয়সী আদভানি। আদালতে হাজির হওয়ার আগে আদভানি লক্ষ্ণৌর একটি ভিভিআইপি গেস্ট হাউসে যাত্রাবিরতি করেছিলেন। সেখানে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগি অদিত্যনাথ ফুল দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান।

গণমাধ্যমের সামনে জানানো এক প্রতিক্রিয়ায় ভারতের কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ মন্ত্রী উমা ভারতী জানিয়েছেন, তিনি নিজেকে অভিযুক্ত বলে মনে করেন না। তিনি বলেন, “কোনো ষড়যন্ত্র হয়নি। এটি একটি উন্মুক্ত আন্দোলন ছিল, জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে যেমন হয়েছিল।” নিজেদের নেতাদের সমর্থন জানিয়েছে বিজেপি। দলটির নেতা ভারতের আরেক কেন্দ্র্রীয় মন্ত্রী ভেঙ্কাইয়া নাইডু বলেছেন, “আমরা নিশ্চিত, আমাদের নেতারা নির্দোষ। কোনো দাগ ছাড়াই তারা খালাস পাবে।” বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মামলায় আদভানিসহ বিজেপির আরো ডজনখানেক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের জন্য বিশেষ সিবিআই আদালতকে এক মাসের সময় বেঁধে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারতের উগ্র ডানপন্থি করসেবকরা বাবরি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেয়। ওই দিন কাছের একটি মঞ্চ থেকে এ ঘটনায় উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় এসব নেতার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলার বিচার চলছিল উত্তর প্রদেশের রায়বেরেলির আদালতে। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছেন, রায়বেরেলির আদালত আদভানি, যোশি, উমা ভারতীসহ ২১ জনকে ওই মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর এলাহাবাদ হাই কোর্টও তা বহাল থাকে। এরপর সিবিআই সুপ্রিম কোর্টে গেলে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত থেকে মামলা চালানোর নির্দেশ আসে।

আদালতের আদেশে বলা হয়, দুটি মামলার বিচার একসঙ্গে লক্ষ্ণৌর বিশেষ সিবিআই আদালতে চলবে। দুই বছরের মধ্যে বিচার শেষ করে রায় দিতে হবে। এ জন্য প্রতিদিন শুনানি চালাতে হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য