সৌদিসহ কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে উত্তেজনার মাঝেই কুয়েত সফরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আলে সানি। আগামীকাল (বুধবার) তিনি কুয়েতে যাবেন বলে কাতারের আশ-শার্ক পত্রিকা আজ খবর দিয়েছে।

গত শুক্রবার কুয়েতের প্রথম উপ প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ সাবাহ খালিদ আল-হামাদ আস-সাবাহ দোহা সফর করেন। আঞ্চলিক উত্তেজনায় একদিকে রয়েছে কাতার অন্যদিকে রয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন।

গত বৃহস্পতিবার কাতারের আমিরের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। বিস্ফোরক ওই প্রতিবেদেন বলা হয়েছে-কাতারের আমির আমেরিকা, সৌদি আরব ও তাদের আরব মিত্রদেরকে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য অভিযুক্ত করে তীব্র সমালোচনা করেছেন। এছাড়া, কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার টুইটার পেইজে এক পোস্টে বলেছেন, কুয়েত, সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিশর থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করবে তার সরকার।

অবশ্য, এর অল্প পরেই কাতার সরকার বলেছে, তাদের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাকে কেউ হ্যাক করেছে এবং আমির ওই বক্তব্য দেন নি। কিন্তু সৌদি সরকার ও তার মিত্ররা কাতারের এ কথায় সন্তুষ্ট হয় নি। বরং সৌদি আরবের  গণমাধ্যমগুলো কাতারকে আরব দেশগুলোর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার জন্য অভিযুক্ত করে। পাশাপাশি কাতারের গণমাধ্যমগুলোর ওয়েবসাইট ও টেলিভিশন চ্যানেল নিষিদ্ধ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। পরে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আলে সানি বলেন, তার দেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর শত্রুতামূলক প্রচারণার শিকার এবং এ অবস্থায় তার দেশ লড়াই করবে।

কাতারের সঙ্গে আরব দেশগুলোর এই উত্তেজনায় অংশ নেয় নি কুয়েত বরং কাতারের গণমাধ্যম নিষিদ্ধ করার পর কুয়েত দোহাকে সমবেদনা জানিয়ে বলেছে এ ঘটনা ‘দুঃখজনক’। এছাড়া, চলমান ইস্যুতে কুয়েতের দৃষ্টিভঙ্গিও কাতারের মতো বলে মন্তব্য করেছেন কুয়েতের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিদ জারাল্লাহ।

কোনো কোনো বিশ্লেষক বলছেন, সৌদি আরব মনে করছে পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা পিজিসিসি’র কিছু সদস্য দেশ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের দিকে ঝুঁকি পড়ছে। তবে ইরান সবসময় বলে আসছে, তেহরান কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না এবং সৌদি আরবসহ প্রতিবেশী কোনো দেশের সঙ্গে উত্তেজনা চায় না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য