জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী স্টিফেন ও’ব্রায়েন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ইয়েমেন ‘চরম বিপর্যয়ের’ দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশটির যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ ও মহামারীর কথা উল্লেখ করে তিনি এ সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন।

ও’ব্রায়েন মঙ্গলবার রাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে দেয়া বক্তৃতায় বলেন, বিশ্ববাসী ইয়েমেন সংকটকে শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছে।  তিনি এ ব্যাপারে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিশ্ব শক্তিগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

ইয়েমেনের প্রায় ৭০ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষে পতিত হওয়ার মুখে রয়েছে। এ ছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে কলেরা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ায় ৫০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।  জাতিসংঘ বলেছে, আগামী ছয় মাসে আরো দেড় লাখ মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হতে পারে।

ও’ব্রায়েন বলেন, ইয়েমেন পরিস্থিতি যেমন দৈবক্রমে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা নয় তেমনি এখনো এটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়নি।  এর জন্য দেশটিতে তৎপর পক্ষগুলো দায়ী এবং এক্ষেত্রে বিশ্ব শক্তিগুলোর নিষ্ক্রিয়তার দায়ও কম নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ বক্তব্যের মাধ্যমে প্রকারান্তরে সৌদি আরবের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ব্যর্থতার ব্যাপারে নিজের হতাশার কথাই তুলে ধরলেন জাতিসংঘের এ কর্মকর্তা।

আমেরিকা, ইউরোপ ও মিত্র আরব দেশগুলোর সহযোগিতা নিয়ে এবং জাতিসংঘের নীরবতাকে ব্যবহার করে সৌদি আরব ২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে ইয়েমেনে পাশবিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সেইসঙ্গে  জল, স্থল ও আকাশপথে দেশটিকে অবরোধ করে রেখেছে রিয়াদ।  ইয়েমেনের পদত্যাগকারী প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদিকে আবার ক্ষমতায় বসানোর লক্ষ্যে এই মানবতা বিরোধী অপরাধ করে যাচ্ছে সৌদি আরব।

সৌদি আরবের এই বর্বরোচিত আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ১১,০০০ মানুষ নিহত, লাখ লাখ মানুষ বাস্তুহারা এবং ইয়েমেনের অবকাঠামোর মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। রিয়াদের এই আগ্রাসনের ফলে দারিদ্র্রপীড়িত ইয়েমেনে খাদ্য ও ওষুধ সংকট তৈরি হয়েছে; যা দেশটির ব্যাপারে জাতিসংঘকে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করতে বাধ্য করল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য