বৈশ্বিক নেতৃত্বের স্থান থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে সরিয়ে নিলে সেই শূন্যস্থান রাশিয়া ও চীনের পাশাপাশি সৌদি আরব, তুরস্ক ও ইরানের মতো অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তিগুলো পূরণ করবে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

মঙ্গলবার নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দানকালে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এসব কথা বলেন।

বৈদেশিক সাহায্য ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগের গুরুত্ব যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে বোঝানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন গুতেরেস।

বৈদেশিক সাহায্য ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট এক-তৃতীয়াংশ বা প্রায় এক হাজার ৯০০ কোটি ডলার হ্রাস করার প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্প। এর মধ্যে জাতিসংঘের শান্তিমিশন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার জন্য বরাদ্দ বাজেট থেকে ১০০ কোটি ডলার হ্রাস করার কথা বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে গুতেরেস বলেন, “উন্নয়ন সহায়তা, সাধারণভাবে বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে সহায়তা এবং জাতিসংঘের মতো সংগঠনের জন্য তহবিল যোগানোতে আমেরিকার জনগণের স্বার্থ নিহিত আছে, এটি মার্কিন প্রশাসন ও কংগ্রেসকে বোঝানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি আমরা।”

গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক নেতৃত্বের ভূমিকা থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে গুটিয়ে নিলে অন্যান্যরা ওই শূন্যস্থান পূরণ করতে পারে।

“যারা স্থানগুলা পূরণ করছে এটা শুধু সেই রাশিয়া বা চীন হবে না; আপনি যদি সৌদি আরব, তুরস্ক, ইরান ও বিশ্বের বিভিন্ন অংশে বিদ্যমান আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কথা বিবেচনা করেন, যখন বৃহৎ শক্তিগুলো কোনো জায়গা ছেড়ে যায় তারা ওগুলো অধিকার করে নেবে,” বলেন তিনি।

সবকিছু পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় এসব ঘটনার ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট পাশ হতে কংগ্রেসের অনুমোদন লাগে। যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। কিন্তু বিরোধী ডেমোক্রেটদের মতো উভয় কক্ষের রিপাবালিকানরাও জানিয়েছেন, তারা ট্রাম্প প্রশাসনের আকস্মিক এ বাজেট হ্রাসের বিষয়টি সমর্থন করেন না।

জাতিসংঘে সবচেয়ে বেশি চাঁদা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। সংস্থাটির বার্ষিক ৫৪০ কোটি ডলারের মূল বাজেটের ২২ শতাংশের এবং শান্তিরক্ষা মিশনের ৭৯০ কোটি ডলার বাজেটের ২৮ দশমিক পাঁচ শতাংশের যোগানদাতা যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নির্ধারিত এই চাঁদার পরিমাণের বিষয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ১৯৩টি সদস্য দেশের সম্মতি আছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য