সত্তরের দশকের জনপ্রিয় সিনেমা ‘পাকিজা’র অভিনেত্রী গীতা কাপুরকে হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে গেছে তার ছেলে রাজা। খবর পেয়ে বৃদ্ধ এই অভিনেত্রীর হাসপাতালের পাওনা মিটিয়েছেন নির্মাতা অশোক পণ্ডিত এবং রমেশ তৌরানিজি।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, একমাস আগে মুম্বাইয়ের এসআরভি হাসপাতালে গীতা কাপুরকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে তার ছেলে রাজা, যে পেশায় একজন নৃত্যপরিচালক। এরপর এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে যাওয়ার কথা বলে গায়েব হয়ে যায় সে।

এ বিষয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক দীপেন্দ্র ত্রিপাঠি বলেন, “অ্যাম্বুলেন্সে করে যখন গীতা হাসপাতালে পৌঁছান, তখনই তার ছেলে কী পরিমাণ অর্থ জমা দিতে হবে- জিজ্ঞেস করে। এরপর এটিএম বুথ খোঁজার কথা বলে সে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর আর ফেরেনি। গীতা কাপুরের পরিবারের আর কোনো সদস্যও এব্যাপারে খোঁজ নেয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “ওই সময় তার রক্তচাপ খুবই কম ছিল। তাকে ঠিক মতো খাওয়ানো হতো না।”

এদিকে হাসপাতালে গীতা কাপুর ভর্তি হয়েছেন, এটা জানতে পেরে অশোক পণ্ডিত এবং রমেশ তৌরানিজি নামের দুই নির্মাতা তার একমাসে জমা হওয়া দেড় লাখ রুপির চিকিৎসা খরচ মিটিয়ে দিয়েছেন।

এব্যাপারে ভারতের সেন্সর বোর্ডের সদস্য অশোক পণ্ডিত বলেন, “পত্রিকা পড়ে আমি জানতে পেরেছিলাম যে গীতা কাপুর নামে এক বৃদ্ধাকে হাসপাতালে ফেলে সন্তানেরা পালিয়েছে। এই গীতা কাপুর যে ‘পাকিজা’ খ্যাত গীতা কাপুর তখন তা বুঝিনি। হাসপাতালে পৌঁছেই আমি সব পাওনা মিটিয়ে দিই। আমার জন্য এটা কোনো বড় ব্যাপার নয়। তিনি আমার মাতৃস্থানীয়া।”

গীতা কাপুরের ছেলে রাজা তাকে ফেলে পালানোর পর বাড়িও বদলে ফেলে। ফলে কেউই তার খোঁজ দিতে পারছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ব্যাপারে রাজার নামে একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

গীতা গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেছেন, ছেলের বাড়িতে থাকাকালীন নির্যাতনের শিকার হতেন তিনি।

“আমি তার উচ্ছৃঙ্খল জীবনধারা পছন্দ করতাম না বলে সে প্রায়ই আমাকে মারতো। চারদিনে একবার খেতে দিত আমাকে। মাঝেমধ্যে দিনের পর দিন ঘরে আটকে রাখতো। আমি বৃদ্ধাশ্রমে যেতে চাইছিলাম না, সেকারণে সে পরিকল্পনা করে আমাকে অভুক্ত রেখেছে, যাতে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। এরপরই সে আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে পালিয়ে যায়,” বলেন তিনি।

অশোক পন্ডিত বলছেন, গীতা কাপুর যাতে আত্মসম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারেন সেকারণে ভালো একটি বৃদ্ধাশ্রমে তাকে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে চান তিনি।

“জীবনের বাকি সময় যাতে আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকতে পারেন, তার শরীরের দিকে যাতে কেউ না কেউ খেয়াল রাখে, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে একটি ভালোমানের বৃদ্ধাশ্রমে তাকে পাঠাতে চাইছি। কিন্তু সেটাও সম্ভব হচ্ছে না, যতক্ষণ না তার ছেলেকে পাওয়া যাচ্ছে। তার কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র পেলেই কেবল সেটা সম্ভব। বুঝতে পারছি না এতোদিনেও কেন তাকে পুলিশ খুঁজে বের করতে পারেনি,” বলেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য