শ্রীলঙ্কার দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলে মৌসুমী বৃষ্টিপাত থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১০৩ জন প্রাণ হারিয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ।

স্থানীয় এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বিবিসি জানান, বন্যা ও ভূমিধসে আরও ১১৩ জন নিখোঁজ রয়েছে।

বন্যাদুর্গতদের আশ্রয়ের জন্য ১৮৫টি আশ্রয় কেন্দ্র গঠন করা হয়েছে।

আগামী কয়েকদিনে আরও ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর। এই অবস্থা পুরো দেশজুড়ে ছড়ি পড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে।

এনডিটিভি জানায়, শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ ব্যবস্থাপণা কেন্দ্র থেকে কেলানি নদীর দুই পাড়ে বসবাসকারীদের জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপণা কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের ১৪টি জেলায় বন্যায় প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শনিবার সকালেও দুর্গত এলাকা থেকে ১২ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানায় এনডেটিভি।

গত সপ্তাহ থেকে শ্রীলঙ্কায় ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। শ্রীলঙ্কার আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ২০০৩ সালের পর গত বৃহস্পতিবার সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

বন্যায় দেশটির পশ্চিম উপকূলের জেলা কালুতারা সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সেখানে অন্তত পাঁচটি স্থানে বড় ধরনের ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে বলে জানান পুলিশের মুখপাত্র প্রিয়ান্থা জয়াকদি।

শুক্রবার তিনি বলেন, “ভূমিধসের পর উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।”

শ্রীলঙ্কার তিন বাহিনীর সদস্যরাই উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ কাজে অংশ নিচ্ছে।

গলের নেলুয়ায় হেলিকপ্টারে করে দুর্গতদের উদ্ধারের সময় পড়ে গিয়ে দেশটির বিমানবাহিনীর এক সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন বলেও জানায় এনডিটিভি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জারি করা সতর্কবার্তায় বলা হয়, “ওয়েস্টার্ন, সাবারাগামুওয়া, সাউদার্ন, সেন্ট্রাল এবং নর্থ-ওয়েস্টার্ন প্রদেশে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি অব্যাহত থাকবে।”

দেশের এই দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিবেশী দেশ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সাহায্য কামনা করেছে।

প্রতিবেশী দেশ ভারত এরই মধ্যে ত্রাণসহ নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজ শ্রীলঙ্কা পাঠিয়েছে। জাহাজগুলো উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ কাছে অংশ নেবে।

এনডিটিভি জানায়, শনিবার সকালে ত্রাণ নিয়ে ভারতীয় একটি জাহাজ কলম্বো পৌঁছেছে।

শ্রীলঙ্কায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার তারানজিত সিং সিন্ধু জানান, ত্রাণগুলো শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

২০০৩ সালের পর এটাই শ্রীলঙ্কায় সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা। সেবার বন্যায় ২৫০ জনের মৃত্যু এবং ১০ হাজারের বেশি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছিল বলে জানায় বিবিসি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য