আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকে: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার পারুলিয়া তফসীলি উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজে বন্যা আশ্রায় কেন্দ্রের উদ্ধোধন করা হয়েছে। ৮৬ লক্ষ ৭৭ হাজার ৭ শত ৮৫ টাকা ব্যায়ে এ বন্যা আশ্রায় কেন্দ্রটি নির্মাণ করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।স্থানীয় সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন এ ভবনটি উদ্ধোধন করেন। ওই উপজেলায় এ পর্যন্ত ৪ টি বন্যা আশ্রায় কেন্দ্র তৈরী করেছে এলজিইডি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। এতে বন্যার সময় হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা নদীর তীরবর্তী ৬ টি ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার পানি বন্দি পরিবার আশ্রয় নিতে পারবে।

হাতীবান্ধা উপজেলার চর হলদিবাড়ী গ্রামের সামসুল আলম, মকি মিয়া ও আব্দুস সোবাহান বলেন, আমাদের বাড়ী তিস্তা নদীর চরে। বন্যার সময় আমরা পানি বন্দি হয়ে পড়ি। ওই সময় গবাদিপশু ও সন্তানদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হয়। বন্যা আশ্রায় কেন্দ্র হওয়ায় আমাদের সেই চিন্তা দুর হলো। বন্যার সময় আমাদের বসত বাড়ি পানি বন্দি হয়ে পড়লে আমরা আশ্রায় কেন্দ্র গুলোতে আশ্রয় নিতে পারবো।হাতীবান্ধা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফেরদৌস আহম্মেদ বলেন, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ৮৬ লক্ষ ৭৭ হাজার ৭ শত ৮৫ টাকা ব্যায়ে এ বন্যা আশ্রায় কেন্দ্রটি নির্মিত হয়েছে।

এ আশ্রায় কেন্দ্রে সারা বছর পাঠ দানের পাশাপাশি বন্যার সময় ৫ শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিতে পারবেন। এ ভবনে ৫ টি বিশাল রুমসহ একটি শেট রয়েছে। এ উপজেলায় আরও ১০ টি বন্যা আশ্রায় কেন্দ্র তৈরীর প্রস্তাব দেয়া আছে। যা প্রক্রিয়াধীন।হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান ভেলু বলেন, বন্যার সময় তিস্তা তীরবর্তী হাতীবান্ধা উপজেলার ৬ ইউনিয়নের বেশ কিছু অঞ্চলের লোকজন পানি বন্দি হয়ে পড়েন। ওই সময় পানিবন্দি লোকজন চরম দূর্ভোগের শিকার হয়। তাদের কথা চিন্তা করে তিস্তার তীরবর্তী এলাকার স্কুল গুলোতে আশ্রায় কেন্দ্র তৈরী করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত হাতীবান্ধা উপজেলার ৪ টি স্কুলে এ আশ্রায় কেন্দ্র রয়েছে। এতে বন্যার সময় প্রায় ৩ হাজার পরিবার আশ্রয় নিতে পারবে। আরও কিছু আশ্রায় কেন্দ্র তৈরী করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন চেষ্টা করছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য