ম্যানচেস্টার বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত নেটওয়ার্কের বড় একটি অংশকে গ্রেপ্তারের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ পুলিশ।

বিবিসি খবরে বলা হয়, দেশটির সন্ত্রাস-বিরোধী বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা মার্ক রাউলি শুক্রবার এ কথা জানিয়ে বলেছেন, সামনে আরো কয়েকজন গ্রেপ্তার হতে পারে।

গত সোমবার ম্যানচেস্টার এরিনায় একটি পপ কনসার্টে এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় সাত শিশুসহ ২২ জন নিহত হন। সালমান আবেদি নামের এক লিবীয় বংশোদ্ভূত তরুণ হামলাটি চালিয়ে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

আত্মঘাতী আবেদির বিষয়ে তদন্তে ‘বিপুল’ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাউলি।

তিনি বলেন, “এসব গ্রেপ্তারগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। যাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলাম এমন কিছু প্রধান খেলোয়াড়কে আওতার মধ্যে আনতে পেরে আমরা খুব সন্তুষ্ট। তবে এখনও অল্প কিছু কাজ বাকী রয়েছে গেছে।”

ঘটনার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজনকে শুক্রবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা হয়। অপরদিকে আগে গ্রেপ্তার করা দুজনকে এ দিন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

কোনো সূত্রের উল্লেখ ছাড়াই গার্ডিয়ান সংবাদপত্র জানিয়েছে, যে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মধ্যে তিনজন আপন ভাই, এদের আবাদির চাচাতো ভাই বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে যুক্তরাজ্য ও লিবিয়া থেকে আবেদির বাবা ও দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

ওই হামলার পর থেকে যুক্তরাজ্যের সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আর্মড পুলিশ শহরগুলোতে ও যাত্রীবাহী ট্রেনগুলোতে টহল দিচ্ছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বার রুড জানিয়েছেন, সরকারিভাবে হুমকির ঝুঁকি সর্বোচ্চ স্তরে রেখে দেওয়ার অর্থ আরেকটি হামলা আসন্ন বলে ধারণা করা হচ্ছে। হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকার বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

তবে শনিবার লন্ডনে এফএ কাপের ফাইনালসহ সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোর অনুষ্ঠানে হামলা হতে পারে এমন নির্দিষ্ট হুমকির কোনো প্রমাণ নেই বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তামন্ত্রী বেন ওয়ালেস। ওই সময় নিরাপত্তা রক্ষায় অতিরিক্ত আর্মড পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আসছে ৮ জুন যুক্তরাজ্যের পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন। ম্যানচেস্টারে আত্মঘাতী হামলার পর নির্বাচনের প্রচারণা স্থগিত করেছিল দেশটির রাজনৈতিক দলগুলো। শুক্রবার নির্বাচনী প্রচারণা ফের শুরু করা হয়েছে।

এ দিন এক নির্বাচনী প্রচারণায় বিরোধী লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন দেশে হামলার ঝুঁকি বাড়ার জন্য যুক্তরাজ্যের বৈদেশিক নীতিকে দায়ী করেছেন।

এর জবাবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে বলেছেন, “আমাদের নিজেদের দোষেই সন্ত্রাসী হামলা হচ্ছে বলেছেন জেরেমি করবিন। একটি কথা আমি করবিন ও আপনাদের পরিষ্কার করে বলতে চাই, সন্ত্রাসবাদের জন্য কোনো অজুহাত থাকতে পারে না।”

নির্বাচনের সর্বশেষ মতামত জরিপে দেখা গেছে, মে-র রক্ষণশীল দলের সঙ্গে করবিনের লেবার দলের ব্যবধান পাঁচ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এতে আভাস পাওয়া যাচ্ছে, আগে যা ধারণা করা হয়েছিল নির্বাচনে তার চেয়ে অনেক শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য