দিনাজপুর সংবাদাতাঃ বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার উদ্যোগে ২৫ মে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫ টায় জেলা কার্যালয়ে প্রাক- বাজেট বিষয়ক মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি কানিজ রহমান এর সভাপতিত্বে প্রাক- বাজেট বিষয়ক মত বিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারন সম্পাদক ড. মারুফা বেগম। সভার শুরুতে বাজেট বিষয়ক লিখিত প্রবন্ধ পাঠ করেন দিনাজপুর চেহেলগাজী শিক্ষা নিকেতন এর অধ্যাপক রোকসানা বিলকিস।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, দিনাজপুর জেলা শাখার সহ- সভাপতি মাহ্বুবা খাতুন, সম্মানীয় সদস্য আজাদী হাই,আকতার কহিনুর ইসলাম, সহ- সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারা সানু, অর্থ সম্পাদক রতœা মিত্র, সাংগঠনিক সম্পাদক রুবিনা আকতার, লিগ্যাল এইড সম্পাদক জিন্নুরাইন পারু, ভারপ্রাপ্ত আন্দোলন সম্পাদক সুমিত্রা বেসরা, জেলা ও পাড়া কমিটির সদস্যবৃন্দ।

আলোচকরা বলেন, একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নারীর অবদানকে উপেক্ষা করে একটি টেকসই অর্থনৈতিক অবকাঠামো কখনোই চিন্তা করা যায় না। অপরদিকে নারীর অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ, সামাজিক-নিরাপত্তা প্রণয়ন ও ক্ষমতায়ন সুনিশ্চিত না করে নারীর অবদানকে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

দেশের জনশক্তির অর্ধেক নারী। কিন্তু বাস্তবে সর্বক্ষেত্রেই নারী বৈষম্যের শিকার। নারী গৃহে যে শ্রম দেয় তা কখনই হিসেবে আনা হয় না। এছাড়া অজস্্র খাত আছে যেখানে নারীর শ্রম শক্তিকে মূল্যায়ণ করা হয় না। আর এই অবমূল্যায়নের সূত্র ধরেই জাতীয় বাজেটে আমরা কোনো সুনিদির্ষ্ট বরাদ্দও দেখতে পাই না। একটি সমতাভিত্তিক,গণতান্ত্রিক,মানবিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে নারীকে নারী হিসেবে নয় একটি শ্রম শক্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

তার জন্য সুনিদির্ষ্ট খাতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দীর্ঘদিন যাবত নারী- পুরুষের সমতা ভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে নারী- পুরুষের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমিয়ে আনার জন্য নারী বান্ধব বাজেটের দাবী জানিয়ে আসছে। এই দাবীগুলো নারীর জন্য সুযোগ নয় অধিকার।

উক্ত সভা থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো ঃ- প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধীদের অবাধ যাতায়াতের সুব্যবস্থা থাকা জরুরী। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা, বিপর্যস্ত জনপদে ও আদিবাসী, প্রতিবন্ধী, দূর্গম অঞ্চলের ও দুর্ভাগ্যপীড়িত নারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখতে হবে।  ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মাধ্যমে নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য প্রতিটি ব্যাংকে একটি তহবিল থাকা দরকার।

নারীর অস্বীকৃত কাজের অর্থনৈতিক স্বীকৃতি নারীকে সমাজে সম্মানিত করবে । নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে বড় বরাদ্দ রাখা দরকার। সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে গতিশীল করার জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ রাখতে হবে। সরকারি বে-সরকারি শিল্প কারখানায় নারী শ্রমিকদের জন্য যাতায়াত সুবিধা তৈরি করা, ভিন্ন টয়লেট ব্যবস্থা রাখার জন্য আইন তৈরী করা প্রয়োজন,বরাদ্দ রাখার প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে নারীদের বরাদ্দ বাড়াতে হবে। কৃষিজীবী নারীদের কৃষক স্বীকৃতি প্রয়োজন এবং তাদের কৃষি ঋণসহ অন্যান্য কৃষি সুবিধা পাবে এবং খাদ্যের নিরাপত্তা বাড়াতে হবে। নির্যাতিত নারীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো এবং তাদের উন্নয়নশীল কাজে সম্পৃক্ত করার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা,পরিবার-পরিকল্পনা সেবা ইত্যাদি প্রদানের।  পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র বিমোচনে ক্ষুদ্র ঋণের ভূমিকাকে স্থায়ীভাবে নারী ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। স্থানীয়ভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং নিরাপত্তা রক্ষার জন্য পরিবহন ব্যবস্থা থাকা উচিৎ। প্রতিটি জেলায় ডে- কেয়ার সেন্টার থাকতে হবে।

পরিশেষে আমরা বলতে পারি নারীর ক্ষমতায়ন কেবল বাজেট বরাদ্দ এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর প্রকৃতি ও ধরণের উপর নির্ভর করে না, বিষয়টি নির্ভর করে বাজেট বরাদ্দ কত দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলো কত সঠিকভাবে কার্যকর হয়েছে তার উপর, যা পরবর্তীকালে নারী বান্ধব নীতি নির্ধারণে সহায়তা কর।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য