গত সোমবার মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী আরিয়ানা গ্র্যান্ডের কনসার্টে চালানো ওই হামলায় ২২ জন নিহত আর ৬৪ জন আহত হয়। হামলার প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটেনে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের প্রচারণা স্থগিত হয়ে যায়। তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে সারাবিশ্বে। ব্রিটিশ গোয়েন্দারা দাবি করছেন, ম্যানচেস্টারের সন্দেহভাজন আত্মঘাতী হামলাকারী সালমান আবেদি একা নয়, তার পুরো পরিবারের সঙ্গেই আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীর সংযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দা সূত্রকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড ডেইলি মেইল এই খবর দিয়েছে।

প্রাথমিকভাবে নিরাপত্তা সূত্র দাবি করে, এটা এক ব্যক্তির সংঘটিত (লোন উলফ) হামলা। তবে গত মঙ্গলবার সেই অবস্থান থেকে সরে তারা হামলায় একাধিক মানুষের জড়িত থাকার সন্দেহের কথা জানায়। একপর্যায়ে সালমানের ভাই ও বাবার গ্রেফতারের খবর আসে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে। এর পরপরই ডেইলি মেইল গোয়েন্দাসূত্রকে উদ্ধৃত করে সালমান-পরিবারের জঙ্গি-সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ সামনে নিয়ে এসেছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, সালমানের বাবা ও ছোট ভাইকে গ্রেফতারের পর আত্মঘাতী তরুণ সালমান আবেদির পরিবারের সঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সম্পর্ক থাকার দাবি করছেন গোয়েন্দারা।

লিবিয়ার ত্রিপোলিতে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে সালমান আবেদির বাবা রমজান এবং ছোট ভাই হাশেমকে গত বুধবার লিবিয়ার ত্রিপোলি থেকে গ্রেফতার করা হয়। গোয়েন্দা সূত্রকে উদ্ধৃত করে ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, হাশেমের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং সে ত্রিপোলিতে হামলার করার পরিকল্পনা করছিল। অভিযোগ করা হচ্ছে, এক মাসেরও বেশি সময় আগে থেকে হাশেম সালমানের ম্যানচেস্টার হামলার পরিকল্পনার কথা জানতো।

আর সালমানের বাবা রমজান ছিলেন লিবিয়ার প্রয়াত প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফিবিরোধী যোদ্ধা। সিরিয়ায় আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট সাবেক সংগঠন আল নুসরা ফ্রন্টের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন ছিল তার। এর আগে ম্যানচেস্টার থেকে সালমানের বড় ভাই ইসমাইল আবেদিকেও গ্রেফতার করা হয়। তবে তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে কিংবা আদৌ কোনও অভিযোগ আছে কিনা তা জানা যায়নি।
সালমান আবেদির পরিবার কি জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত?

বাবা-মা আর দুই ভাই ও এক বোনকে নিয়ে সালমানের পরিবার। তার বাবা রমজান একসময় বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। লিবিয়ার সাবেক এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ডেইলি মেইল জানায়, রমজান ১৯৯০ এর দশকে লিবিয়ান ইসলামিক ফাইটিং গ্র“পের সদস্য ছিলেন। ওই গ্র“পটির সঙ্গে আল-কায়েদার সংশ্লিষ্টতা ছিল। লিবিয়ান ইসলামিক ফাইটিং গ্র“প ভেঙে যাওয়ার পরও রমজান সালাফি জিহাদি মুভমেন্ট করতেন। একে সালাফিবাদের উগ্র ধারা বলে বিবেচনা করা হয় এবং তার ওপর ভিত্তি করেই আল-কায়েদা ও আইএস-এর উদ্ভব।

সালমানের মা সামিয়া একজন পরমাণু বিজ্ঞানী। আল কায়েদা নেতা আবু আনাস আল আল লিবি (যাকে ২০১৩ সালে ত্রিপোলির রাস্তা থেকে মার্কিন বিশেষ বাহিনী তুলে নিয়ে গিয়েছিল)-এর স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী সামিয়া। ১৯৯৮ সালে আফ্রিকায় দুটি মার্কিন দূতাবাসে বোমা হামলায় আল লিবির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এফবিআই-এর মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় থাকা এ আল-কায়েদা নেতা ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপত্তা হেফাজতে মারা যান। সালমানের বাবা রমজান একবার তার প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন করে আল-লিবির ছবি দিয়েছিলেন। সালমানের দুই ভাই-হাশেম ও ইসমাইল। হাশেম আইএস সমর্থিত সাইটগুলোতে কমেন্ট করতো। লিবিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, হাশেম কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে সে ও তার ভাই, দুইজনই আইএস-এর সদস্য।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য