‘সন্ত্রাসবাদে সমর্থন’ দেওয়ার অভিযোগে মিসরে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার মূল ওয়েবসাইটসহ ২১টি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির সরকার। অবশ্য, মিসর সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এর আগে গত বুধবার সকালের দিকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও আল-জাজিরাসহ কিছু ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়।

মিসরের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেনা ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে  ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স খবরটি জানিয়েছে।  একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা সূত্রকে উদ্ধৃত করে গত বুধবার মেনার প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতারসহ বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত মিসরকেন্দ্রিক কয়েকটি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।  মেনা জানায়, ‘সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রপন্থার সমর্থন এবং মিথ্যা সংবাদ প্রচারের কারণে ২১টি ওয়েবসাইট ব্লক করা হয়েছে।’ এই ওয়েবসাইটগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও মেনাকে জানায় ওই নিরাপত্তা সূত্র।

রয়টার্স বলছে, এ ব্যাপারে দেশটির জাতীয় টেলিকম রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনিও এই খবরটি নিশ্চিত কিংবা অস্বীকার কোনওটাই করেননি। উল্টো ওই কর্মকর্তঅ বলেন, ‘যদি এটা সত্যি হয়েও থাকে, তবুও তো কোনও সমস্যা নেই।’ রয়টার্স কর্তৃপক্ষ জানায়, খবরটি খতিয়ে দেখার জন্য নিজস্ব উদ্যোগে আল জাজিরাসহ পাঁচটি ওয়েবসাইটে ঢোকার চেষ্টা করেও তারা ব্যর্থ হয়েছেন।

দ্ইুজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকায় কিংবা কাতারের অর্থায়নে পরিচালিত হওয়ার কারণে ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করা হয়। এর আগেও কাতারের বিরুদ্ধে ব্রাদারহুডকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিল মিসর।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মিসরভিত্তিক ওয়েবসাইট মাদা মাসর অভ্যন্তরীণভাবে পরিচালিত হয়ে থাকে এবং এর কোনও  ইসলামি সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করা হয়। তারপরও ওয়েবসাইটটিতে ঢোকা যাচ্ছে না।  মার্কিন সংবাদমাধ্যম হাফিংটনপোস্টের আরবি ভার্সনের ওয়েবসাইটটিতেও প্রবেশ করা যাচ্ছিলো না।  রয়টার্সকে নিরাপত্তা সূত্রও এ দুই ওয়েবনসাইটের নাম উল্লেখ করেনি। তারা কেবণ পাঁচটি ওয়েবসাইটের নাম জানিয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য