বাহরাইনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় দিরজা গ্রামে পুলিশি হামলায় অন্তত পাঁচ ব্যক্তি নিহত হয়েছে বলে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। পুলিশ এ সময় অন্তত ২৮০ ব্যক্তিকে আটক করেছে বলেও জানিয়েছে ওই মন্ত্রণালয়।

এর আগে মঙ্গলবার ওই গ্রামে বাহরাইনের সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়া মুসলমানদের আধ্যাত্মিক নেতা শেখ ঈসা কাসেমের বাসভবনে হানা দিয়ে সেখানে উপস্থিত সবাইকে আটক করে পুলিশ।

তবে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে শেখ কাসিম রয়েছেন কিনা সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, শিয়া নেতা কাসিমকে গৃহবন্দি করেছে বাহরাইনের নিরাপত্তা বাহিনী।

রোববার বাহরাইনের একটি আদালত শেখ ঈসা কাসিমকে এক বছরের স্থগিত কারাদণ্ড এবং বিশাল অংকের আর্থিক জরিমানা করার পর তাঁর বাসভবনে সমর্থকরা জমায়েত হয়েছিল।

নিরাপত্তা বাহিনী প্রখ্যাত এই শিয়া আলেমের বাসভবনে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে টিয়ারগ্যাস ও পাখি মারা গুলি ছুড়লে হতাহতের ওই ঘটনা ঘটে।  এ হামলার প্রতিবাদে বাহরাইনের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা দেশব্যাপী সরকার বিরোধী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন।

গত জুন মাসে বাহরাইন সরকার শেখ ঈসা কাসিমের নাগরিকত্ব বাতিল করে দেয়ার পর থেকে তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে মাঝেমধ্যেই পুলিশের সংঘর্ষ হচ্ছিল। মানামা কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, শেখ কাসিম তার অবস্থান ব্যবহার করে বিদেশিদের স্বার্থ রক্ষা করছেন এবং দেশে ‘সাম্প্রদায়িকতা’ ও ‘সহিংসতা’ উস্কে দিচ্ছেন।  তবে শিয়া নেতা কাসিম এ অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, বাহরাইনের নিরাপত্তা বাহিনী সাধারণ মানুষের ওপর অত্যধিক বলপ্রয়োগ করছে। এটি বলেছে, পুলিশ গত ১১ মাস ধরে দিরজা গ্রামটি অবরোধ করে রেখেছিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য