ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপে ৬০ দিনের জন্য সামরিক আইন জারি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে। উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস বা দায়েশ সদস্যদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষের পর কঠোর এ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়। ফিলিপাইনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর তিন সদস্য নিহত হয়েছে।

মিন্দানাও দ্বীপের বেশ কয়েকটি মুসলিম গেরিলা সংগঠন কয়েক দশক করে দ্বীপটির জন্য আরো বেশি স্বায়ত্বশাসনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে।

প্রেসিডেন্ট দুতের্তে রাশিয়া সফরে থাকা অবস্থায় মিন্দানাওয়ে সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেন।  এ আইন জারির ফলে এখন সেনাবাহিনী ওই দ্বীপে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে দমন অভিযান চালাতে এবং যেকোনো ব্যক্তিকে ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার করে অনির্দিষ্টকালের জন্য আটক রাখতে পারবে।

মস্কোয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতে দুতের্তে তার দেশে তৎপর দায়েশসহ অন্যান্য জঙ্গী গোষ্ঠীকে দমনের কাজে আরো বেশি অত্যাধুনিক অস্ত্র প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।

দুই লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত মিন্দানাও দ্বীপের একটি জঙ্গি গোষ্ঠী সম্প্রতি দায়েশের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করে। এর জের ধরে মঙ্গলবার ওই গোষ্ঠীর নেতাকে আটক করার জন্য ফিলিপাইনের সেনাবাহিনী দ্বীপটির মারাওয়ি শহরে হানা দিলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।

ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষা সচিব দেলফিন লরেঞ্জানা বলেছেন, জঙ্গি গোষ্ঠীটির নাম ‘মাউতে’।  এই গোষ্ঠীর জঙ্গিরা একটি হাসপাতাল ও একটি কারাগার দখল করেছে বলেও জানান তিনি। দেলফিন বলেন, জঙ্গিরা একটি গির্জাসহ আরো কিছু ভবনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

ফিলিপাইনের সংবিধান অনুযায়ী, কোনো হামলা বা বিদ্রোহ দমনের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাহী আদেশে ৬০ দিনের জন্য সামরিক আইন জারি করতে পারেন।  তবে পার্লামেন্ট ইচ্ছা করলে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তা বাতিল এবং সুপ্রিম কোর্ট ওই আদেশের বৈধতা খতিয়ে দেখতে পারে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য