রজব আলী, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) থেকেঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার খয়েরবাড়ী দখিল মাদরাসার সুপার সাইফুল ইসলামের জালিয়াতির শিকার হয়ে, চার বছর চাকুরী করার পরেও এমপিও ভুক্ত হতে পারেনি ওই মাদরাসার সহকারী শিক্ষিকা ফেন্সিয়ারা বেগম।  মাদরাসা সুপারের জালিয়াতির শিকার ফেন্সিয়ারা বেগম, চাকুরি ছেড়ে এখন পরিবার- পরিজন নিয়ে মানবেতর জিবন-যাপন করছেন।

এদিকে চাকুরী দেয়া ও নিবন্ধন করার জন্য  মাদরাসা সুপারকে দেয়া সাড়ে তিন লাখ টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না ওই জালিয়াতকারী সুপার। সুপারকে দেয়া টাকা উদ্ধারের জন্য প্রসাশনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ওই শিক্ষিকা।

ভুক্তভুগী শিক্ষিকা ফেন্সিয়ারা বেগম বলেন মাদরাসা সুপার সাইফুল ইসলাম গত ২০০৪ সালে তাকে সহকারী শিক্ষিকা পদে নিয়োগ দেয়ার জন্য দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহন করেন। এর পর তাকে সহকারী শিক্ষিকা পদে নিয়োগ দেন। ২০০৪ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি নিয়মিত মাদরাসায় গিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদান করেন। এর পর ২০১০ সালে মাদরাসাটি এমপিও ভুক্ত হয়, এমপিও হওয়ার সময় তার নিবন্ধন সনদের প্রয়োজন হয়, এজন্য তিনি নিবন্ধন পরিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেলেন, সেই সময় মাদরাসার সুপার সাইফুল ইসলাম, তাকে নিবন্ধন সনদ দেয়ার কথা বলে এক লাখ টাকা গ্রহন করে একটি ভুয়া  নিবন্ধন সনদ এনে দেন। ওই ভুয়া নিবন্ধন সনদ টি শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে গিয়ে  ভুয়া বলে প্রমানিত হয়। এই কারনে তার আর চাকুরী করা হযনি। একারনে তিনি ২০১০ সালে চাকুরী ছেড়ে তার দেয়া সাড়ে তিন লাখ চাকা ফেরৎ চাইলে, মাদরাসা সুপার আজ দিব কাল দিব বলে এখন পর্যন্ত ফেরৎ দেননি। তার দেয়া টাকা উদ্ধার করতে এখন তিনি প্রসাশনের দ্বারে দ্বারে ঘরছেন।

গতকাল রোববার খয়েরবাড়ী দাখিল মাদরাসায় গিয়ে দেখা যায় মাদরাসা সুপার মাদরায় যায়নি, এই কারনে ওই মাদরাসার সহকারী সুপার আব্দুস ছালামসহ সহকারী শিক্ষকগণের সাথে কথা হয়। শিক্ষকগণের সাথে কথা বলে  জানা গেছে মাদরাসার সুপার সাইফুর ইসলাম দু,দপায় শিক্ষক ফেন্সিয়ারার নিকট সাড়ে তিন লাখ টাকা নিয়েছে, এই টাকা নিয়ে ওই মাদরাসায় কয়েক দফা বিচার সালিশও হয়েছে একাধিকবার মাদরাসার সুপার ফেন্সিয়ারার নিকট নেয়া সাড়ে তিন লাখ টাকা ফেরৎ দেয়ার অঙ্গিকার করেও এখন পর্যন্ত তার টাকা ফেরৎ দেয়নি।

শুধু ফেন্সিয়ারায় নয়, ওই সুপার চাকুরী দেয়ার কথা বলে অনেকের নিকট টাকা নিয়েছে। সম্প্রতিক মাদরাসার অফিস সহকারী পদে চাকুরী দেয়ার কথা বলে তিন জনের নিকট টাকা  নেয়ার কথাও উঠেছে। শিক্ষককেরা জানায় মাদরাসা সুপার মাসে চার-পাঁচ দিনের বেশি মাদরাসায় যায়না অধিকাংশ সময বাহিরে থাকে। এই বিষয়ে কথা বলার জন্য সুপার সাইফুর ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি ফুলবাড়ী বাজারে যোগাযোগ করার কথা বলেন, গতকাল মঙ্গলবার ফুলবাড়ী বাজারে তাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি ঘটনার আংশিক স্বীকার করে বলেন, নিয়োগ বোড করতে কিছু খরছ নেয়া হয়েছে, সেই খরছ কত টাকা জিজ্ঞেস করলে তিনি টাকার অংক  না বলে এড়িয়ে যান।

এদিকে মাদরাসা সুপার সাইফুল ইসলামের অনিয়ম দুর্নীতির কারনে মাদরাসাটির কোন উন্নায়ন হযনি বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী,সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাদরাসাটি ২০০৪ সালে প্রতিষ্টার সময় নির্মান করা  টিনসেট কাচা-পাকা প–রোনো ঘরে ক্লাস করছেন শিক্ষার্থীরা, ক্লাস রুম গুলো প্লাস্টার করাও হযনি, অথচ মাদরাসা সুপার একাধিক পদে মিক্ষক নিয়োগ দিয়ে বানিজ্য করে নিজের আখের গুছিয়েছেন বলে এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেছেন। এজন্য তারা শিক্ষা অধিদপ্তরের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য