যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে একটি ইনডোর স্টেডিয়ামে মার্কিন পপ তারকা আরিয়ানা গ্রান্ডের কনসার্টে বিস্ফোরণে শিশুসহ অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন অন্তত ৫৯ জন। বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে কনসার্ট শেষ হওয়ার পরপরই বিস্ফোরণের ওই ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা বলে মনে করছে যুক্তরাজ্যের পুলিশ। গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী ছিলেন একজন। তিনি একটি ইম্প্রোভাইজ এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বহন করছিলেন এবং বিস্ফোরণে তিনি নিজেও নিহত হয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের নির্বাচনের আড়াই সপ্তাহ আগে বিস্ফোরণের এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে। ভোটের প্রচার স্থগিত রেখে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় গঠিত কোবরা কমিটির বৈঠক ডেকেছেন তিনি। অন্য দলগুলোও নির্বাচনী প্রচার স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন টুইট করে হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ম্যানচেস্টারে ভয়াবহ বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনার নিন্দা ও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ ইনডোর স্টেডিয়াম ম্যানচেস্টার অ্যারেনা কনসার্ট ভেন্যু হিসেবেও জনপ্রিয়। একসঙ্গে প্রায় ২১ হাজার দর্শকের বসার ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে। বিবিসি জানিয়েছে, ২৩ বছর বয়সী মার্কিন গায়িকা আরিয়ানা গ্রান্ডে তার পরিবেশনা শেষে মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়ার পরপরই অ্যারেনার প্রবেশপথের কাছে বিস্ফোরণের ওই ঘটনা ঘটে।

তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় এই শিল্পী অক্ষত রয়েছেন। এক টুইটে তিনি বলেছেন, এই ঘটনায় তার হৃদয় ভেঙে গেছে। কিছু বলার ভাষাও তিনি হারিয়ে ফেলেছেন। কনসার্ট দেখতে আসা দর্শকদের মধ্যে অনেক শিশুও ছিল। বিস্ফোরণের পর সেখানে আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু হয়ে যায়। অ্যান্ডি হোলি নামে একজন জানান, তিনি কনসার্ট শেষে স্ত্রী আর মেয়েকে নেওয়ার জন্য অ্যারেনার বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। এসময় হঠাৎ বিস্ফোরণের ধাক্কায় তিনি প্রায় ৩০ ফুট দূরে ছিটকে পড়নে।

“উঠে দাঁড়িয়ে দেখি, অনেকে মেঝেতে পড়ে আছে। তখন আমার প্রথম চিন্তা ছিল যেভাবে হোক ভেতরে ঢুকে আমার পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করতে হবে। “কিন্তু ভেতরে তাদের খুঁজে না পেয়ে বাইরে এসে পুলিশ আর দমকল কর্মীদের সঙ্গে মিলে হতাহতদের মধ্যে আমার স্ত্রী আর মেয়েকে খুঁজতে শুরু করি। শেষ পর্যন্ত আমি তাদের অক্ষত অবস্থাতেই খুঁজে পাই।” এমা জনসন নামের আরেকজন জানান, ১৫ ও ১৭ বছর বয়সী দুই মেয়েকে কনসার্ট শেষে নিতে অ্যারেনায় এসেছিলেন তিনি ও তার স্বামী।

বিবিসি রেডিও ম্যানচেস্টারকে তিনি বলেন, প্রবেশ পথের হলঘরটিতে ওই বিস্ফোরণ ঘটে এবং সেটি বোমা ছিল বলেই তার দৃঢ় বিশ্বাস। “আমরা সিঁড়ির মাথায় দাঁড়িয়েছিলাম। হঠাৎ কাঁচগুলো বিস্ফোরিত হল।… পুরো ভবন কেঁপে উঠল। বিস্ফোরণের শব্দ পেলাম, তারপর এল আগুনের হল্কা। অনেক মানুষ পড়েছিল আশপাশে।” খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। ওই স্টেডিয়ামের কাছে ভিক্টোরিয়া স্টেশন থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ঘটনাস্থলে আহতদের চিকিৎসা দিয়েছেন এমন স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে কথা বলে বিবিসির একজন প্রতিবেদক জানিয়েছেন, আহতদের ক্ষত ‘বোমার শার্পনেলের আঘাতের মতো’। ঠিক দুই মাস আগে গত ২২ মার্চ ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কাছে এক জঙ্গি হামলায় পুলিশসহ পাঁচজন নিহত হন, আহত হন অন্তত ৪০ জন। আর ২০০৫ সালে লন্ডনের চার জায়গায় একসঙ্গে আত্মঘাতী হামলায় ৫২ জন নিহত হন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য