সমকামিতার অভিযোগে ইন্দোনেশিয়ার একটি ইসলামী আদালতের দেওয়া আদেশে প্রকাশ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত দুই ব্যক্তির প্রত্যেককে ৮২ ঘা বেত্রাঘাত করেছে দেশটির ধর্মীয় পুলিশ।

মঙ্গলবার রক্ষণশীল আচেহ প্রদেশের রাজধানী বান্দা আচেহর একটি মসজিদের সামনে এ দণ্ড কার্যকর করা হয়।

এ সময় শত শত মানুষ মসজিদটির সামনে জড়ো হয়ে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে। মুখোশ পরা ধর্মীয় পুলিশের সদস্যরা দণ্ডপ্রাপ্ত দুই ব্যক্তিকে মসজিদের সামনে বানানো একটি মঞ্চে তোলার পর উপস্থিত জনতা উল্লাস প্রকাশ করে।

ওই দুজন মঞ্চে মাথা নিচু করে শান্তভাবে দাঁড়িয়েছিল আর চারপাশের লোকজন তাদের উদ্দেশ্য করে রুঢ় মন্তব্য ছুড়ে দিচ্ছিল।

২০১৪ সালে আচেহ প্রদেশে সমকামিতাবিরোধী আইন প্রণয়ন করা হয়। ওই আইনে এই প্রথমবারের মতো কাউকে শাস্তি দেওয়া হল।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের যখন বেত্রাঘাত করা হচ্ছিল তখন প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকেই নিজেদের স্মার্টফোনে তার ভিডিও ধারণ করছিলেন। লাইভস্ট্রিম ভিডিওতেও অনেকে শাস্তির ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন।

উপস্থিত জনতার মধ্যে কয়েকজন কয়েকটি ব্যানার বহন করছিলেন। ওই ব্যানারগুলোতে আচেহ প্রদেশে লেসবিয়ান, গে, উভয়কামী ও হিজড়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে শ্লোগান লেখা ছিল।

এর আগে ব্যভিচারের মতো অন্যান্য অপরাধের জন্য বেত্রঘাত করতে দেখেছেন জানিয়েছে ২০ বছর বয়সী এক ছাত্রী বলেন, “আশা করি সমকামিতার মতো এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না, এটি জঘন্য।”

সমকামিতার জন্য এই দুজনকে শাস্তি দেওয়ার আগে অন্যান্য অপরাধের দায়ে শাস্তিপ্রাপ্ত আরো অন্তত আট জন নারী ও পুরুষকে বেত্রঘাত করা হয়।

শাস্তিপর্ব শুরু হওয়ার পর পুলিশ উপস্থিত জনতাকে নারী ও পুরুষে ভাগ করে আলাদ করে দেয়। বাদামী পোশাক পরা ১০ ব্যক্তি মাথা ঢেকে অনেকগুলো বেত নিয়ে শাস্তিপর্ব শুরু করে।

বেত্রাঘাত করা শেষ হওয়ার পর ওই দুই ব্যক্তিকে ধরে ধরে মঞ্চ থেকে নামানো হয়। তারা চাইলে তাদের পরিবারে ফিরে যেতে পারবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অধিকার গোষ্ঠীগুলো এই শাস্তির নিন্দা জানিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই আচেহ ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে রক্ষণশীল অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এটিই দেশটির একমাত্র প্রদেশ যেখানে সমকামিতাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং দেশের ফৌজদারি আইনের পাশাপাশি ইসলামী আইনকেও বৈধতা দেওয়া হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য