চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে তাপদাহের সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে পল্লী বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং এতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন । দিনেরাতে সমানতালে পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার গতি মন্থর, শ্রমিক মজুরদের কাজের প্রতি অনীহা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লোকসান, হাসপাতালের রোগীদের চরম দুর্ভোগ, অফিস আদালতসহ সর্বত্রই ধীরগতি শুরু হয়েছে।

গত ১০দিন ধরে বিদ্যুতের হঠাৎ লোডশেডিংয়ের ভয়াবহতা বেড়ে যাওয়ায় সামনে রমজানে কি অবস্থা বিরাজ করবে এ নিয়ে শঙ্কার অন্ত নেই ধর্মপালনকারী মুসলমানদের। চিরিরবন্দর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুভাস চন্দ্র রায় জানান, বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারনে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে ক্লাস ঠিকমতো হচ্ছেনা। এছাড়া ভ্যাপসা গরমে ক্লাসরুমের ফ্যান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা ক্লাসে অমনোযোগী হয়ে পড়েছে। চিরিরবন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র নার্স রওশন আরা জানান, লোডশেডিংয়ে হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীদের বেহাল অবস্থা শুরু হয়েছে।

রাতে অনেক রোগী বিছানা ছেড়ে বাইরে বসে রাত কাটাচ্ছে। বাসুদেবপুর জামে মসজিদের ইমাম মাহমুদুর রহমান জানান, বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারনে ও ভ্যাপসা গরমে ফজর ছাড়া অন্যান্য নামাজে মুমুল্লীদের শরীরের কাপড় ভিজে যাচ্ছে। তাছাড়া বর্তমানে দেশের সকল কার্যক্রম ডিজিটালাইজড হওয়ায় প্রতি মুহুর্তে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েই চলছে। ঘনঘন লোডশেডিংয়ের এ অবস্থা চলতে থাকলে উন্নয়নের সকল কর্মকান্ড মুখ থুবড়ে পড়বে বলে মন্তব্য করছেন সমাজের নের্তৃত্বদানকারীরা।

বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের ব্যাপারে চিরিরবন্দর সাব-জেনাল অফিসের এজিএম আব্দুল আলিম জানান, আশুগঞ্জ মেঘনা ঘাট জাতীয় গ্রীডের টাওয়ার ঝড়ে ভেঙ্গে যাওয়ায় জাতীয় সঞ্চালন লাইন থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্ন ঘটায় চাহিদা অনুযায়ী লোড বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছেনা। পাওয়ার গ্রীড কর্তৃপক্ষ নির্মানের প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। নির্মান শেষ হলে বিদ্যুতের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য