মাসুদ রানা পলক, ঠাকুরগাঁও থেকেঃ ঠাকুরগাঁওয়ের একটি স্কুলে শিক্ষক ও জনবল নিয়োগে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর নিয়োগের আগে কর্তৃপক্ষকে টাকা দিয়ে বিপাকে পরেছেন চাকুরি থেকে বঞ্চিত ব্যক্তি। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি শিক্ষক ও জনবল নিয়োগে কোন টাকা নেয়া হয়নি।

ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের আট্গ্যালারিতে অবস্থিত ফ্রীড মাতৃছায়া অটিষ্টিক শিশু নিকেতন নামে একটি স্কুল ২০১১ সালে স্থাপিত হয়। কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে,স্কুলটিতে অটিষ্টিক শিশুসহ শিক্ষার্থীর সংখ্যা রয়েছে ২২৬জন। এর বিপরীতে শিক্ষক ও কর্মচারি রয়েছে ৪১ জন। কিন্তু কাগজে কলমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুইশতাধিকের উপড়ে হলেও বাস্তবে ওই প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিতি অর্ধেকেরও কম। এই অবস্থায় স্কুলটি এমপিওভুক্ত হলে কর্তৃপক্ষ ওই প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য জনবল নিয়োগ দেন। যা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

তবে অভিযোগ রয়েছে স্কুলটিতে জনবল নিয়োগে কর্তৃপক্ষ কমপক্ষে প্রত্যেকের কাছ থেকে চার লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছেন। সেই সাথে চাকুরি বঞ্চিত ব্যক্তির টাকাও ফেরৎ দিতেও টালবাহানা করছেন কর্তৃপক্ষ। নেপথ্যে নয়, চাকুরি দেয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেন ফ্রীড মাতৃছায়া অটিষ্টিক শিশু নিকেতন স্কুলের অধ্যক্ষ। আর নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে শহরের বেশিরভাগ মানুষের মাঝে প্রসঙ্গটি ছড়িয়ে পরে তখন কর্তৃপক্ষ তা ঢাকতে বিভিন্ন জায়গায় তদবিরও করে বলে জানা গেছে।

চাকুরি বঞ্চিত জেলা শহরের ইসলামবাগ এলাকার এম এ সেলিম জানান, আমি দীর্ঘ দিন ধরে ফ্রীড মাতৃছায়া অটিষ্টিক শিশু নিকেতনে কাজ করেছি। অসুস্থ্যতার কারনে চাকুরি ছেড়ে দেই। আমার চাকুরি থাকাকালিন সময়ে প্রতিবন্ধি স্কুলটি এপিওভুক্ত হয়। এপিওভুক্ত হলে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও অধ্যক্ষ তাহমিনা আখতার মোল্লাকে অনুরোধ করি, আমার ছেলে শাহাজাহান কবির সুজনকে স্কুলের একটি পদে চাকুরি দিতে। তিনি বিষয়টিতে রাজি হন।

তবে নিয়োগ পেতে আড়াই লাখ টাকা দাবি করেন। আমি ঋণ মহাজন করে পুরো টাকাই উনার হাতে দেই। কিছুদিন পরে তিনি আবার জানান আরো দেড় লাখ টাকা দিতে হবে নইলে চাকুরি দেয়া সম্ভব না। বাকি টাকা দিতে না পারায় আমার ছেলের চাকুরি হয়নি। চাকুরি না হোক আমার আড়াই লাখ টাকা তো ফেরৎ দিবে তাই না। সেই টাকা ফেরত চেয়ে উনার কথা মতো কয়েকবার লিখিতভাবে জানিয়েছি। তবুও টাকাটা ফেরৎ পাচ্ছি না।

শুধু আমার কাছে নয় যাদের চাকুরি হয়েছে প্রত্যেকের কাছে কম করে হলেও চার লাখ টাকা করে নিয়েছে। আমি একজন অসহায় মানুষ আমার কোন আয় নেই টাকাটা না পেলে ঋণ শোধ করবো কিভাবে, আর চলবো কি করে। আমি আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করবো আমাকে আর হয়রানী না করে টাকাটা ফেরৎ দিতে ব্যবস্থা নিবেন। আর স্কুলের অধ্যক্ষ তাহমিনা আখতার মোল্লার সাথে যোগাযোগ করা হলে বিষটি এড়িয়ে কাগজপত্র দেখে জানানোর কথা বলেন।

এ বিষয়ে জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ওই অসহায় ব্যক্তির টাকা ফিরে পাবার ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেই সাথে নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য