কৃষি শ্রমিক সংকটসহ অর্থ ব্যয় কর্মসহ স্বল্প সময়ে অধিক ধান মাড়াই করায় দিনাজপুরের চাষীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভ্রাম্যমান ধান মাড়াই মেশিন।

বোরো ধান কাটা শুরু হওয়ার পর থেকে অন্ততঃ শতাধিক ভ্রাম্যমান ধান মাড়াই মেশিন ঢুকে পড়েছে উপজেলার গ্রামে গ্রামে। চাষীদের উঠানে, রাস্তায় এবং কি জমির উঁচু জায়গায় মাড়াইয়ের কাজ শেষ করা হচ্ছে। এতে শ্রমিকের খরচের চেয়ে অনেক কম খরচে স্বল্প সময়ে ধান মাড়াই করা সম্ভব হওয়ায় চাষীরা এ মেশিনের দিকেই ঝুঁকে পড়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ৫হাজার ৭শত ২০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে চাল আকারে বি,আর-২৮ প্রতি হেক্টরে ৩ দশমিক ৮টন উচ্চ ফলনশীল ৫টন ও ২৯ জাতের সাড়ে ৪ টন।

বোরো চাষী ফনীভূষণ ও রামচন্দ্রপুর গ্রামের আজিজুল ইসলাম বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধান কাটা মাড়াইয়ের আগেই ঝড় বৃষ্টিসহ বিভিন্ন কারণে ধান গাছগুলো ক্ষেতে শুয়ে পড়ে। ফলে ধানগুলো পুরোপুরি পাকার আগ মুহূর্তে একসঙ্গে কাটা-মাড়াই শুরু হওয়ায় তীব্রভাবে শ্রমিক সংকটে পড়তে হয়েছে। দৈনিক ৫শত থেকে ৫৫০টাকা মুজুরী দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে ১বিঘা জমির ধান কাটতে দূরত্ব ভেদে সাড়ে ৫হাজার থেকে সাড়ে ৬হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে।

বেশী অর্থ ব্যয়ে ধান কাটা গেলেও মাড়াই করার মজুর সংকট থেকেই যাচ্ছে বলেই চাষীরা ভ্রাম্যমান ধান মাড়াই মেশিনে ধান মাড়াইয়ে ঝুকে পড়েছেন। বাড়ীর খোলান অথবা রাস্তার পাশে মেশিন লাগিয়ে ধান মাড়াই করা হচ্ছে। এই মেশিনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ধান কাটার আগেই মেশিন মালিককে অগ্রিম অর্থ দিয়ে সিরিয়াল নিতে হচ্ছে। শ্

রমিকের মুজুরী বৃদ্ধি ও সংকটের কারণে চাষীরা ধান ঘরে তোলার লক্ষে শ্রমিকদেরকে দ্বিগুন মুজুরী দিয়ে ধান কাটা শুরু করলেও শ্রমিক সংকটের কারণে তা পুরাদমে ধান কাটা মাড়াই করতে পারছেননা । জেলার বিভিন্ন গ্রামের উঠানে কিংবা মাঠে এবং রাস্তার ধারে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা থ্রেসার মেশিন নিয়ে চাষীদের বাড়ী বাড়ী ঘুরে ধান মাড়াই কাজ করছে।

ধান মাড়াইর পাওয়ার থ্রেসার মেশিন মালিক আবুল হোসেন, অহিদুর রহমান ও রুহুল আমিন বলেন,প্রায় আড়াই লাখ টাকায় এই মেশিন এই বছরেই কিনেছেন। বর্তমানে প্রতিদিন আড়াই শ থেকে ৩শ মন ধান মাড়াই করা হচ্ছে। এই বছরেই তাদের মেশিনের দাম উঠে আসবে বলে আশা ব্যক্ত করছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ শামীম বলেন, পাওয়ার থ্রেসার মেশিন দিয়ে ধান মাড়াই করায় চাষীরা অনেক বৈরী আবহাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন। তবে ইতিমধ্যেই ৬৫ ভাগ জমির ধান কাটা হয়ে গেছে। আগামী ১০ দিনের  মধ্যে পুরো ধান কাটা শেষ হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য