যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল দল ও বিরোধী লেবার পার্টি নিজ নিজ নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে-র অগ্রগামিতা হ্রাস পেয়েছে বলে জনমত জরিপে দেখা গেছে।

আগামী ৮ জুন যুক্তরাজ্যে জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর পর প্রথমদিকে করা জরিপে দেখা গিয়েছিল, নির্বাচনে প্রায় ১৫০টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে অনায়াস জয় পেতে যাচ্ছেন মে।

কিন্তু গত সপ্তাহে নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশের পর শনিবার করা চারটি জরিপে দেখা গেছে, রক্ষণশীলরা ৪৪ থেকে ৪৬ শতাংশ ভোট পেতে পারে, অপরদিকে লেবার পার্টি পেতে পারে ৩৩ থেকে ৩৫ শতাংশ ভোট। এই জরিপেও রক্ষণশীলরা সহজ জয় পেতে যাচ্ছে ধারণা পাওয়া গেলেও তারা প্রায় ৪০টি আসন বেশি পাবে বলে ইঙ্গিত করা হয়। আগের জরিপে পাওয়া ধারণার চেয়ে যা অনেক কম।

ইউগভের এক জরিপে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী মে-র অগ্রগামিতা অর্ধেক হ্রাস পেয়েছে। এখন লেবার পার্টি থেকে জনসমর্থনে নয় পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে মে-র রক্ষণশীল দল।

গত বৃহস্পতিবার রক্ষণশীল দল নিজেদের নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করে। এতে বয়স্কদের সেবার ক্ষেত্রে ব্যয়ের একটি বড় অংশ করদাতাদের কাছ থেকে সরিয়ে যারা নিজেদের সেবার জন্য নিজেরাই ব্যয় বহন করতে পারবে তাদের কাছ থেকে আদায় করার পরিকল্পনা প্রকাশ করছেন মে। এদের মধ্যে সম্পদশালীরাও আছে, যারা তার রক্ষণশীল দলের প্রধান সমর্থক।

এর পাশাপাশি সব ধরনের বয়স্কদের জন্য চলমান শীতকালীন জ্বালানি ভাতাও নিয়ন্ত্রণ করার প্রস্তাব করেছেন তিনি।

সানডে টাইমস জানিয়েছে, ইউগভের জরিপে দেখা গেছে, বয়স্কদের বিষয়ে নীতি পরিবর্তনের বিরোধীতা করেছে ৪০ শতাংশ ভোটার, অপরদিকে তা সমর্থন করেছে ৩৫ শতাংশ।

মে-র এসব প্রস্তাবের সমালোচনা করে লেবার পার্টির নেতা জেরমি করবিন বলেছেন, রক্ষণশীলদের পরিকল্পনায় ‘প্রজন্মদের মধ্যে যুদ্ধ বাধিয়ে’ বয়স্কদের বিরুদ্ধে তরুণদের দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

করবিনের দলে নির্বাচনী ইস্তাহারে ডাক, রেলওয়ে ও পানি সরবরাহ সেবাকে ফের সরকারিকরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, এতে উচ্চ আয়ের লোকদের কর বাড়ানোর ও কর্পোরেট কর কমানোর কথা বলা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য