দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরে শেখ জাহাঙ্গীর পীর মাজার ও কবরস্থান কমিটির নিকট দায়িত্ব হস্তান্তরে গড়িমসি এবং কালক্ষেপন করা হচ্ছে অভিযোগ করেছেন শেখ জাহাঙ্গীর পীর মাজার ও কবরস্থান ওয়াকফ এস্টেটের অফিসিয়াল মোতওয়াল্লী আলহাজ্ব সৈয়দ মহবুল ইসলাম।

শনিবার (২০ মে) সকালে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৪২ সাল থেকে বংশানুক্রমে তারা শেখ জাহাঙ্গীর পীর মাজার ও কবরস্থানের ১৭ দশমিক ৫৫ একর সম্পত্তির দেখভালের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

১৯৭৪ সালে তার দাদা মরহুম সৈয়দ আহম্মদ কবিরাজ মৃত্যুবরনের পর তাঁর পিতা মরহুম সৈয়দ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম তার স্থলাভিষিক্ত হন। তিনি তার পিতার অর্পিত দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় বাংলাদেশ জরিপে শেখপুরা মৌজার ১৪নং খতিয়ানে শেখ জাহাঙ্গীল পীল মাজার ও কবরস্থান ওয়াকফ এস্টেটের জিম্মাদার হিসেবে তার নামে রের্কড প্রকাশিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মোতাওয়াল্লী আলহাজ্ব সৈয়দ মহবুল ইসলাম জানান, আমার পিতার মৃত্যুর আগেই তার এই গুরু দায়িত্ব আমার উপর অর্পন করেন। তখন থেকেই শেখ জাহাঙ্গীর পীর মাজার ও কবরস্থানের স্থাবর-অস্থাবর সহায়সম্পত্তির দেখাশুনা করে আসছি। হঠাৎ করেই রফিকুল ইসলাম ও সফিকুল ইসলাম ছুটু আমার বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে ১৩৯৫/২০১৫ নং রিট মামলা আনয়ন করেন যা শুনানী অন্তে ২৩-০১-১৭ তারিখে খারিজ করে দেন।

এরপর হাইকোর্ট ডিভিশনের আদেশ মতে জেলা প্রশাসক ও সভাপতি ওয়াকফ উন্নয়ন কমিটি দিনাজপুরকে ওয়াকফ অধ্যাদেশের ৩১(৫) ধারা মতে ই.সি ৯৩৬৭ অনুযায়ী শেখ জাহাঙ্গীর পীর মাজার ও কবরস্থানের ওয়াকফ এস্টেটের অফিসিয়াল মোতাওয়াল্লী হিসেবে আমরা আবেদন করেছিলাম কিন্তু তারা আবার ৭-২-১৭ তারিখে প্যাড ব্যবহার করে ওয়াকফ প্রশাসক ঢাকায় লিখিত আবেদন জমা দেয়, তখন উক্ত আবেদনটি ওয়াকফ প্রশাসক দিনাজপুর জেলা প্রশাসক বরাবরে প্রেরন করেন।

হাইকোর্টের প্রেরিত পত্রের আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে ব্যবস্থা না নিয়ে জেলা প্রশাসক দিনাজপুর তদন্ত কমিটি গঠন করে সময়ক্ষেপনের মাধ্যমে দায়িত্বভার বুঝে দিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য আমরা শেষ অবধি জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিমের সাথে সাক্ষাত করে তাকে সমস্ত বিষয় অবগত করেছি। তার পরামর্শক্রমে জেলা প্রশাসককে লিখিত আবেদন জমা দেয়া হয় কিন্তু তাতেও কাজ হচ্ছেনা।

সংবাদ সম্মেলনে বলঅ হয়, পরবর্তীতে আমরা বাধ্য হয়ে মো. শফিকুল হক ছুটুকে বিবাদী করে হাইকোর্টে ৬০৯০/২০১৭ নং রিট পিটিশন দায়ের করলে গত ৩ মে তারিখে হাইকোর্ট ১৩৯৫/২০১৫ নং রিট তাং ২৩/০১/২০১৭ তারিখের আদেশ কেন বাস্তবায়ন হয়নি মর্মে রুলনিশি জারী করে ৪ সপ্তাহের মধ্যে জবাব চেয়েছেন এবং আগামী ৬ মাসের জন্য ওয়াকফ উন্নয়ন কমিটি দিনাজপুর জারীকৃত তদন্ত কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম, আব্দুস সামাদ, সৈয়দ মাহামুদুল ইসলাম, আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম, এসএ নজরুল ইসলাম, সৈয়দ আহাম্মে মইনুল ও ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য