পীরগঞ্জে গরু ব্যবসায়ী বাদল মিয়া (৪২) কে অপহরনের ১৮ ঘন্টা পর পুলিশ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থেকে উদ্ধার এবং ৪ অপহরনকারীকে আটক করেছে। ওই ঘটনায়  পীরগঞ্জ থানায় একটি অপহরন মামলা হয়েছে। পুলিশ, অপহৃত ও প্রত্যক্ষদর্শীর সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার রামচন্দ্রপুরের নুরুল ইসলামের পুত্র গরু ব্যবসায়ী বাদল মিয়া ভেন্ডাবাড়ীহাটের ‘মডেল ক্লাব’ থেকে ব্যবসার জন্য ৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ঋন নিয়ে সুদে-আসলে ১৩ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু এতেও মডেল ক্লাব কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট না হয়ে গত ১৬ মে রাত ৯ টায় ব্যবসায়ী বাদলকে কৌশলে আমিনুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ডেকে নিয়ে ওই ক্লাবে যায়।

সেখানে চঞ্চল, মধু বাবুসহ আরও ৭/৮জন অপেক্ষমান ছিল। পরে  ওই ব্যবসায়ীকে ২টি মোটর সাইকেলযোগে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যায় তারা। এরপর অপহরনকারীরা অপহৃতকে নিয়ে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকে এবং অপহৃতের বাড়ীতে মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ হিসেবে ২ লাখ টাকা দাবি করে বিকাশ একাউন্টের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকাও নেয়। ঘটনাটি পীরগঞ্জ থানার ওসি ও ভেন্ডাবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে অবহিত করা হলে পুলিশ কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে মাঠে নামে। পীরগঞ্জের পুলিশ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা সদরের প্রফেসরপাড়ায় অপহরনকারী ও অপহৃতের অবস্থানের তথ্য নিশ্চিত হয়।

অপহৃতকে অন্যত্র পাচারের সময় পলাশবাড়ী থানা পুলিশ অপহরনকারী দলের ৪ সদস্য পীরগঞ্জ উপজেলার ভেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের  মাইকড় গ্রামের আমিনুল ইসলাম (৩৫) ও আনিছার রহমান (৩০), চককরিম গ্রামের এনামুল হক ওরফে চঞ্চল (৩৫) এবং রামপুরা গ্রামের টিটুল মিয়া (২৫) কে হাতেনাতে গ্রেফতার ও অপহৃতকে উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে অপহৃত ব্যবসায়ী বাদী হয়ে পীরগঞ্জ থানায় মামলা করেছে। এ ব্যাপারে ওসি রেজাউল করিম বলেন, অপহরনকারীরা একের পর এক তাদের অবস্থান পরিবর্তন করায় তাদের সঠিকভাবে অবস্থান নির্নয় তরা সম্ভব হচ্ছিল না।

অপহৃতকে অন্যত্র পাচারের সময় পলাশবাড়ী থানার পুলিশ প্রফেসরপাড়ায় রাস্তার উপর থেকে ৪ অপহরনকারীকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনার পেছনে স্থানীয় একটি বড় চক্র জড়িত রয়েছে বলেও তিনি জানান। তাদেরকেও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। অপহৃত ব্যবসায়ী বাদল মিয়া বলেন, আমি ব্যবসার জন্য সুদে টাকা নিয়ে পুরো টাকা পরিশোধ করেছি। কিন্তু তারা আমাকে অপহরনের পর ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়েছিল। বিকাশের মাধ্যমে ওরা ১০ হাজার টাকাও নিয়েছে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে শুধু ভেন্ডাবাড়ীহাটেই নয় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক ক্লাব  উচ্চহারে সুদে টাকা বিনিয়োগ করে দেদার ব্যবসা চালিয়ে আসছে। তাদের সুদের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে ঋণগ্রস্থদের ধরে এনে ক্লাবে বেঁধে মারধর, বাড়ী-ঘরের আসবাবপত্র, মোটর সাইকেল, গরুসহ অন্যান্য জিনিসপত্র আটক করে রাখা হয় বলে জানা গেছে। এদের খপ্পরে পড়ে অনেক ব্যবসায়ী পথে বসেছে। অথচ এদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহনের কোন রেকর্ড নেই পীরগঞ্জ থানা পুলিশের খাতায়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য