ফুরবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ ভ্রাম্যমান আদালতের কার্য্যক্রম গত ১৩ থেকে বন্দ থাকায়  দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মুখ থবড়ে পড়েছে মাদক বিরোধি অভিযান, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ কর্মসুচি, বাজার নিয়ন্ত্রন, ভেজাল বিরোধি অভিযান, রাস্তা-ঘাটে অবৈধ যানবহন পার্কিন, বালু খেকোদের অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরেুদ্ধে অভিযান।

গত ১২ মে মহামান্য হাইকোটের একটি আদেশে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটদের ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা  অবৈদ ঘোষনা দেয়ায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার ভ’মি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার ক্ষমতা হারিয়ে  যায়, এই কারনে তারা এখন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করছেনা।এদিকে ফুলবাড়ী উপজেলা সদর থেকে দিনাজপুর জেলা সদরের দুরুত্ব প্রায় ৪১ কিলোমিটার, এত দুর থেকে এসে একজন জুটিশিয়ালল ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিদিন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা সম্ভাব  হবে না।

এই সুযোগে ভ্রাম্যমান আদালতের তৎক্ষনাৎ সাজা পাওয়ার ভয়ে, যে সকল মাদক ব্যবসায়ী মাদক ব্যবসা ছেড়ে গাঁ ঢাঁকা দিয়ে ছিল তারা আবার কোমর বেধেঁ মাদকের ব্যবসায় নেমে পড়েছে। নদিতে নেমে পড়েছে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরাও। গত ১৪ মে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে টাক্সফোর্সের অভিযানে ইস্তাব নগর স্টেশন পাড়ার গাঁজা ব্যবসায়ী মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে মোজাফ্ফর রহমান সাড়ে সাত’শ গ্রাম গাঁজাসহ ধরা পড়ে, অথচ এই মোজাফ্ফর রহমান ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে কয়েক দফা আটক হয়ে সাজা ভোগ করার পর, দিনাজপুর পুলিশ সুপারের নিকট আত্মসমার্পন করে মুচলেকা দিয়ে আসছিল যে,সে আর মাদক ব্যবসা করবে না। সুধু মোজাফ্ফর রহমান একা নয়, ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে কয়েক দফা করে সাজা ভোগ করে এই উপজেলার প্রায় অর্ধশত মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক ব্যবসা না করার অঙ্গিকার করেছিল, কিন্তু যখন তারা জেনেছে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের আর সাজা দেয়ার ক্ষমতা নাই, এই সুযোগ নিয়ে তারা আবার নতুন করে শুরু করেছে তাদের পুরোনো মাদক ব্যবসা।

গত মঙ্গলবার রাতে কাজিহাল ইউপি এলাকায় একটি বাল্যবিয়ের ঘটনা ঘটেছে, সুধু গত মঙ্গলবারোই নয় গত কয়েক দিনে ফুলবাড়ী উপজেলায় প্রায় পাঁচটি বাল্যবিয়ের ঘটনা ঘটেছে, অথচ গত এক বছরেও পাঁচটি বাল্যবিয়ে হয়নি।

ফুরবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্য্যলয় সুত্রে জানা গেছে, গত এক বছরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত একাধিক ইভটিজিংকারীসহ অর্ধশত মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে বিভিন্ন ম্য্য়াদে সাজা দিয়েছে, এছাড়া প্রায় বিশটি বাল্যবিয়ে বন্ধসহ অর্ধশত জুয়াড়িকে আটক করে জরিমানা আদায় করেছে। অপরদিকে একাধিক অবৈধ বালু উত্তোলনকারীকে আটক করে জরিমানা আদায়সহ বালু উত্তোলনের সঞ্জাম জব্দ করেছে, ফলে গত এক সপ্তাহ আগেও নদিতে বালু উত্তোলন করার সাহস পায়নি।
এদিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা ভ্রাম্যমান আদালতের কার্য্যক্রম বন্ধ থাকায়, সামনে রমজান মাসে ভেজাল খাদ্য ও বাজার নিয়ন্ত্রনের কি হবে এই নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে সাধারন মানুষ।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর হোসেন চৌধুরী বলেন, ভেজাল বিরোধি অভিযানসহ ছোট ছোট অপরাধিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করার ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমান আদালত অগ্রণী ভুমিকা রেখেছে, এখন অপরাধ হওয়া দেখে কাকে কোথায় খবর দেয়া হবে সাধারন জনগণ তা কেউ বলতে পারছে না, এবং জুটিশিয়ালল ম্যাজিস্ট্রেপকে কখন কোথায় পাওয়া যাবে তাও কেউ জানে না। তিনি আরো বলেন ছাত্রীদের ইভটিজিংসহ ছোট ছোট অপরাধীদের হাতে ক্ষতি গ্রস্থরা সহজে তাদের বিচার পেত, ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যেমে, সেই রাস্তাটি এখন বন্ধ। একই কথা বলেন  সাবেক পৌর কাউন্সিলর জয়প্রকাশ গুপ্ত, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ।

একজন আইনজিবী নাম প্রকাশ না করার সত্বে বলেন, এক এক জন জুটিশিযালল ম্যাজিস্ট্রেট এর আদালতে হাজার হাজার মামলার জট রয়েছে প্রতিদিনে শত শত মামলা আরো আসচ্ছে, সেই মামলা গুলো নিয়ে তারা হিমশিম খাচ্ছে, তার উপর ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযার পরিচালনা করা জুটিশিয়ালল ম্যাজিস্ট্রেটদের পক্ষে অসম্ভাব হয়ে পড়বে। আর ভ্রাম্যমান আদালতের কার্য্যক্রম বন্ধ থাকলে সমাজে আইন শৃংখলার অবনতি নেমে আসবে। এই জন্য তারা সরকারের সুদৃস্টি কামনা করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য