বিয়ের পরেও স্বামীর সাথে সংসার করতে পারছেন না অতঃপর স্বামীর হাতে নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোজাম্মেল হকের কন্যা চায়না আক্তার (২৫)। দুই সন্তানকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি।

বিকেলে রায়পুর এলাকার বাঁকশিড়ি গ্রামের মোজাম্মেল হকের বাড়িতে গেলে তার কন্যা চায়না আক্তার জনান, আজ থেকে তার বিয়ে হবার প্রায় ৪-৫ বছর হচ্ছে। কিন্তু বিয়ে হবার ৪ (চার) মাস পর থেকেই তার স্বামী তাকে নানান ভাবে নির্যাতন করে আসছে।

প্রায় ৫ (পাঁচ) চছর আগে বীরগঞ্জ উপজেলার কল্যাণী আর্দশ গ্রামের নওসাদ এর পুত্র মোঃ মোতালেব (২৮) এর সাথে চায়নার পারিবারিক ভাবে বিবাহ বন্ধন হয়। বিয়ের চার মাস পর থেকেই মোতালেব ও তার পিতা-মাতা সহ চায়নার উপরে নানাভাবে নির্যাতন চালায়। এবিষয়ে তার স্বামীর বাড়ির এলাকার স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা অনেক বার বিচার সালিশ করেছে কিন্তু তাতেও কোন পরিবর্তন হয়নি মোতালেবের বলে জনান চায়নার পিতা মোজাম্মেল হক।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে গত ৯ (নয়) মাস যাবত তার কন্যা ও দুই নাতি নাতনি তার বাড়িতে আছেন। কিন্তু মোতালেব এ পর্যন্ত তার সন্তাদেরও কোন খোজ-খবর নেন নি। আমি একজন দিন মুজুর হয়ে এইভাবে সংসারের ঘানি টানতে পারছি না। আমার মেয়েকে তার স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা অন্যায়ভাবে নির্যাতন চালাচ্ছে, এর আগে আমার কন্যাকে এমন মার মারছে মারিয়ে হাত ও পা ভাঙ্গে দিয়েছিলো, মারতে শুরু করলে তাকে বেহুশ করে ফেলে তারা।

চায়না আক্তার বলেন যে, আমার স্বামী আমাকে কোন ভাবেই সহ্য করতে পারে না। সে এলাকার আর একটি মেয়ের সাথে ভাব/প্রেম করে। এবিষয়ে তার মা-বাপও জানে কিন্তু তারা তাকে কোন বাঁধা বা নিষেধ করে না। আর আমার সাথে কারণ ছাড়াই ঝগড়া শুরু করে। আমাকে কয়েক বার মারপিট করে আমার হাত-পা ভাঙ্গে দিয়েছে ও আমার হাতে দাও দিকে কোপ মারছে । এর আগেও সে আর একটা বিয়ে করছিল সেই স্ত্রীও তার নির্যাতন সহ্য করতে না পারে তাকে ছাড়ে চলে যায়। আমিও এইসব মারপিট ও নির্যাতন সহ্য করতে না পারে ও আমার জীবনের ভয়ে আমার দুই সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়িতে চলে আসছি।

আমার এই কষ্টটাকে বুঝার মতো কেও নেই। আমার বাপ তার নিজের সংসার ঠিকভাবে চালাতেই পারে না আবার তার ঘারে আমি ও আমার এই চার বছরের একটা ছেলে ও ডের বছরের একটা মেয়েকে নিয়ে তার সংসারে খাচ্ছি।

আমি প্রশাসনের ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, এই ধরনের গরিব অসহায় নির্যাতিত নারীদের নির্যাতনকারীদের আইনের আওতায় আনে তাদের উপযুক্ত বিচার করা হয়। যাতে করে ভবিষৎ এ আর অন্যকেও এইভাবে কারও উপরে নির্যাতন না করার সাহস পায়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য