অভিনয় নিয়ে পুরোদমে ব্যস্ত সময় পার করছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী জয়া আহসান। দুই বাংলায়ই সমান জনপ্রিয় তিনি। কয়েকদিন আগে পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পাওয়া তার অভিনীত ‘বিসর্জন’ ছবিটিই এর প্রমাণ। কৌশিক গাঙ্গুলী পরিচালিত এ ছবিটি মুক্তির পর বিরতিহীনভাবে পাঁচ সপ্তাহ হাউসফুল চলছে। এটাকে কলকাতার বাংলা চলচ্চিত্রে সর্বকালের সেরা রেকর্ড বলেও মতপ্রকাশ করছেন অনেকে।

যেখানে পশ্চিমবঙ্গের হলে হলে দক্ষিণী ছবি ‘বাহুবলি টু’র প্রদর্শন চলছে বেশ দাপট নিয়ে সেখানে জাতীয় পুরস্কার জয়ী বাংলা ছবি ‘বিসর্জন’ও কম যাচ্ছে না। এ ছবির অন্যতম প্রধান চরিত্র পদ্মা। যেটির রূপ দিয়েছেন জয়া আহসান। দুর্দান্ত পাররম্যান্স নৈপুণ্যে চরিত্রটি দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন জয়া। কলকাতার বাংলা ছবিতে এ যাবৎকালের শ্রেষ্ঠ পাঁচটি পারফরম্যান্সের মধ্যে এটি একটি বলে মন্তব্য করেছেন সেখানকার অনেক নির্মাতা ও দর্শক।

এ ছবির সাফল্যের পর জয়া আহসান অভিনীত প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র আগামী ১৮ই মে মুক্তি পাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। কলকাতায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রের নাম ‘ভালোবাসার শহর’। এ প্রসঙ্গে জয়া আহসান গতকাল বলেন, আমার অভিনীত প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এটি। গত ৮ই মে কলকাতার নন্দনে এর স্পেশাল স্ক্রিনিং ছিল। সেই শোতে কৌশিক গাঙ্গুলী, অরিন্দম শীল, অনিন্দ চ্যাটার্জি, প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যসহ অনেক গুণী নির্মাতা এসেছিলেন। সকলেই বেশ প্রশংসা করেছেন ছবিটির।

আমি দর্শকের উদ্দেশে এ ছবিটি নিয়ে একটা কথা বলতে চাই- যারা এন্টারটেইন হতে ছবিটি দেখতে চান তাদের না দেখাই ভালো। কারণ এ ছবিটি সময় বের করে দেখতে হবে। পৃথিবীর নানা শহরে পেশিশক্তি খাটিয়ে বিভিন্ন অরাজকতা হচ্ছে, যুদ্ধ-বিগ্রহের কারণে অনেক সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর সেই খবরগুলো আমরা সকালে নাস্তার টেবিলে বসে পত্রিকার পাতায় চোখ বুলানোর পর যে যার মত কাজে চলে যাচ্ছি। সেই ঘটনাগুলো নিয়ে তেমন ভাবছি না।

তেমনই অনেক বিষয় এখানে তুলে ধরা হয়েছে। তাই এ ছবিটি একটু সিরিয়াস হয়ে সময় নিয়ে দর্শকের দেখতে হবে। পপকর্ন খেতে খেতে এন্টারটেইন হওয়ার মতো ছবি এটা না। ‘ভালোবাসার শহর’ ছবিতে জয়ার পাশাপাশি অভিনয় করেছেন ঋত্বিক চক্রবর্তী, অরুণ মুখোপাধ্যায়, সোহিনী সরকার প্রমুখ। পুরোনো কলকাতা ও নতুন কলকাতা শহরের বিভিন্ন জায়গায় এর দৃশ্যধারণের কাজ হয়েছে। এ ছবিটির মোট দৈর্ঘ্য ৩০ মিনিট। ছবিটি পরিচালনা করেছেন কলকাতার ‘ফড়িং’ খ্যাত নির্মাতা ইন্দ্রনীল রায় চৌধুরী।

প্রসঙ্গত ‘বিসর্জন’-এর আগে কলকাতায় অরিন্দম শীলের ‘আবর্ত’ (২০১৩), ‘ঈগলের চোখ (২০১৬), ইন্দ্রনীল রায় চৌধুরীর ‘একটি বাঙালি ভূতের গপ্পো’ (২০১৫) ও সৃজিত মুখার্জির ‘রাজকাহিনী’ (২০১৫) ছবিতে অভিনয় করেছেন জয়া। এর মধ্যে ‘আবর্ত’ ছবির জন্য ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডে (ইস্ট) মনোনয়ন পান তিনি। আর ‘রাজকাহিনী’ ছবির জন্য টেলিসিনে অ্যাওয়ার্ডসহ নানা পুরস্কারও পেয়েছেন। হিসাব কষলে দেখা যায়, কলকাতার ছবিতে ২০১৩, ২০১৫ ও ২০১৭ সালে অর্থাৎ দু’বছর পর পর চলচ্চিত্রের জন্য জয়া কোনো না কোনো সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

এদিকে কলকাতার পাশাপাশি দেশেও গত দু’বছরে বেশকিছু ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। এরমধ্যে রয়েছে ‘পুত্র’, ‘খাঁচা’, ‘পেয়ারার সুবাস’, ‘মেসিডোনা’, ‘বিউটিসার্কাস’। এরমধ্যে ‘খাঁচা’ ছবিটি কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হককে উৎসর্গ করা হয়েছে। ছবিটি তিনি দেখেছেন বলেও জানালেন জয়া। তিনি বলেন, হাসান আজিজুল হক ছবিটি দেখে আমাকে ফোন করে প্রশংসাও করেছেন। এ ছবির অভিনেত্রী হিসেবে আর কী চাওয়ার থাকতে পারে আমার।

অন্যদিকে দেশে জয়া নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস ‘দেবী’ অবলম্বনে অনুদানের আওতায় একই নামের একটি চলচ্চিত্রের শুটিং শেষ করেছেন সম্প্রতি। এ ছবিটি প্রযোজনার পাশাপাশি এতে অভিনয়ও করেছেন তিনি। চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন অনম বিশ্বাস। সব মিলিয়ে বলা যায়, দুই বাংলার চলচ্চিত্রেই জয়া আহসান এখন এক আলোকিত নাম। যার অসাধারণ অভিনয় আলো ছড়াচ্ছে দুর্নিবার।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য