দিনাজপুর সংবাদাতাঃ চিরিরবন্দরের কিসমত ফতেজংপুর গ্রামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত-জখম করেছে একই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও বিভিন্ন মামলার আসামীরা। ৭১’র রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ হরমুজ আলী ও তাঁর পরিবার শেষ বয়সে এসে আজ ওইসব কুখ্যাত সন্ত্রাসীদের ভয়ে চরম শঙ্কায় দিনাতিপাত করছে।

এমনকি ওই সন্ত্রাসীদের ভয়ে একটি বিবৃতিও দিতে পারছে না মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার। চিরিরবন্দর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মমিনুল ইসলাম আহত বীর মুক্তিযোদ্ধা হরমুজ আলীকে হাসপাতালে দেখে সমবেদনা জ্ঞাপন করলেও এ ব্যাপারে সন্ত্রাসীদের বিচার দাবী করে কোন বিবৃতি বা বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

গত ১২ মে’১৭ শুক্রবার বিকালে বাড়ীর পার্শ্বে একাকী অবস্থায় পেয়ে সাবেক ইউপি সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হরমুজ আলীকে (৬৭) এলোপাথারী কোপাতে থাকে ওইসব চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। কোন কথা না শুনে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরী কোপাতে থাকে তারা। এলাকাবাসী দেখতে পেলে দৌড়ে এসে সন্ত্রাসীদের বিরূদ্ধে দাঁড়ালে তারা হরমুজ আলীকে ফেলে পালিয়ে যায়।

পরে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে মমুর্ষ অবস্থায় দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এলাকাবাসী জানায়, ঘর-বাড়ী ভাঙ্গাসহ একাধিক মামলার আসামী ১০-১২ জনের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের একটি সংঘবদ্ধ দল পূর্ব পরিকল্পিত ভাবেই এ হামলা চালায়। এলাকায় তারা সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। সন্ত্রাসী হিসেবে ভয়ে তাদের সঙ্গে তেমন কেউ মেশে না।

এ ব্যাপারে হরমুজ আলীর পুত্র ফজলে এলাহী জানান, এর আগে আমার চাচাতো ভাইয়ের বাড়ী-ঘর ভাংচুর করে ওই সন্ত্রাসীরা। এ ব্যাপারে চিরিরবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং-৪, তাং-০৮-১০-১৪ইং। ওই মামলার স্বাক্ষী আমার বাবা। মামলার স্বাক্ষ্য না দিতে ওই সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকি প্রদান করে।

কিন্তু আমার বাবা নীতির প্রশ্নে সন্ত্রাসীদের সাথে আপোসে বিশ্বাসী না। তাই তিনি তাদের কথায় কোন কর্ণাপাত না করায় পরিকল্পিতভাবে তারা এ হামলা চালায়। আমরা তাদের বিরূদ্ধে মামলা দায়ের করার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আমি জোর দাবী জানাচ্ছি-প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের অবিলম্বে ওইসব সন্ত্রাসীদের বিরূদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য