সুবল রায়, বিরল (দিনাজপুর) থেকেঃ দিনাজপুরের বিরল উপজেলা একটি কৃষি প্রধান এলাকা। বিরলে ধান কাটা-মারা শুরু হওয়ায় কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছে। মাঠে তাদের নাওয়া-খাওয়া আর মাঠেই তাদের কাজ। সুর্য উদয় থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে তারা থাকে ব্যস্ত। তবে এবার কৃষকের মুখের হাসি অনেকটা হারিয়ে গেছে। ব্লাষ্ট রোগের আক্রমনে মাঠের পর মাঠ ধান নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যদিকে সরকার বেধে দিয়েছে ধানের যে মুল্য তাতে কৃষকরা সন্তুষ্ট হতে পারেনি।

কৃষকের আঙ্গীনা ভরে গেছে ইরি-বোর ধানে। ধান পরিবহন আর ধান মাড়াইয়ে ব্যস্ত হয়ে পরেছে কৃষক-কৃষাণীরা। ধান দেখে কৃষকরা নতুন আশাই বুক বেধেছে। কিন্তু এবার ব্লাষ্ট রোগের আক্রমনে মাঠের পর মাঠ ধান বিবর্ণ হয়ে মারা গেছে। ধান আছে কিন্তু ধানের ভিতর চাল নেই। এই দেখে কৃষকদের মুখে হাসি নেই। এবার ধান উৎপাদনের ব্লাষ্ট রোগের কারণে দেখা দিয়েছে বিপোর্যয়। শুধু বিরলেই নয় দিনাজপুর জেলার ১৩ টি উপজেলাই কম বেশী ইরি-বোর ধান ব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে। কৃষকদের কৌশল, অভিজ্ঞতা আর কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ কিছুই কাজে আসছেনা বলে জানান কৃষকরা।

িিদনাজপুর জেলার বিরল উপজেলায় প্রধান ফসল হল ধান। ধানের সাথে জড়িয়ে আছে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা। মানুষের মুল অর্থনীতি হচ্ছে ধানকে ঘিরে। চলতি ধানের মৌসুমে বিরল উপজেলায় ১৩ হাজার ৮শ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরর আবাদ হয়েছে। এদিকে ডিজেল,বীজ, সার ও কীটনাশক ঔষধের ধাম দফায়-দফায় বৃদ্ধি আর অন্য দিকে শ্রমিকের মুজুরী বৃদ্ধি তারউপর ব্লাষ্ট রোগের আক্রমন হওয়ায় কৃষকরা হয়ে পড়েছে দিশেহারা। ইরি-বোর ধান থেকে আয়ের সাথে ব্যয়ের কোন  সমন্বয় নেই। আর ইরি-বোর ধান ২৪ টাকা কেজী দওে কেনার ঘোষনা দেওয়ায় কৃষকেরা মেনে নিতে পারছেননা।

মাঝে মধ্যে কৃষকরা কোননা কোন ভাবে ক্ষতি গ্রস্থ হয়। তাই তাদের অর্থনৈতিক ক্ষতি পুশিয়ে নিতে সরকারকে কৃষি বিমা চালু করা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন সমাজ গবেষক ও লেখক সতির্থ রহমান।

বিঘা প্রতি ধান উৎপাদন করতে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে কৃষকের। কিন্তু সরকার ক্রয় করবে ২৪ টাকা কেজী দরে ধান। এটা কৃষকদের জন্য খুবেই ক্ষতি কর হবে। তাই সরকারী ধান ক্রয়ের দর পুণরায় বিবেচনা করবে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমন প্রত্যাশা বিরল বাসীর।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য