নিজেদের গৃহকর্মীকে নিগ্রহের অভিযোগে বেলজিয়ামে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আট রাজকুমারীর বিচার শুরু হয়েছে।

২০০৮ সালে শেখ হামদা আল নাহিয়ান তার সাত কন্যাকে নিয়ে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে গিয়েছিলেন। সেখানে একটি বিলাসবহুল হোটেলের একটি ফ্লোরের সব রুম ভাড়া নিয়ে তারা আট মাস অবস্থান করেছিলেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা তাদের লোকলস্করের মধ্যে ২০ জনেরও বেশি গৃহকর্মী ছিল। এসব গৃহকর্মীকে তারা ক্রীতদাসের মতো করে রেখেছিল বলে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগে বাদী জানিয়েছেন, এসব গৃহকর্মীকে হোটেল থেকে বের হতে দেওয়া হতো না এবং রাজকুমারীদের উচ্ছিষ্ট খাবার খেতে বাধ্য করা হতো।

হোটেল থেকে এক গৃহকর্মী পালিয়ে আসার পর ঘটনা প্রকাশ পায়।

এক ভারতীয় খানসামাসহ রাজকুমারীদের অনুপস্থিতিতেই তাদের বিচার চলছে।

নিগ্রহের অভিযোগ ছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ অনুমোদন ছাড়া গৃহকর্মীদের নিয়ে আসা এবং ওয়ার্ক পারমিট ও মজুরি ছাড়া কাজ করানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিচারে দোষী প্রমাণিত হলে তাদের কয়েক লাখ ইউরো জরিমানাসহ কারাদণ্ডও হতে পারে। তবে অধিকার আন্দোলনকারীরা বলেছেন, কারাদণ্ড ভোগ করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজকুমারীদের বেলজিয়ামের কাছে হস্তান্তর করার সম্ভাবনা খুব কম।

তবুও বিশ্বের অন্যতম ধনী ওই পরিবার ক্রীতদাসপ্রথা ও ‘মানবপাচারের’ সঙ্গে জড়িত, আদালতে এটি প্রমাণ হলে তাও ‘তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা’ হবে বলে মনে করেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিশেষজ্ঞ নিকোলাস ম্যাকগিহান; পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর অভিবাসী কর্মীদের নিয়ে কাজ করেন তিনি।

তিনি জানান, আইনত নিষিদ্ধ হলেও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে গৃহকর্মীদের ক্রীতদাসত্ব বজায় আছে। ‘সামাজিক মর্যাদার জন্য’ এসব দেশের ক্ষমতাসীন অভিজাত শ্রেণি প্রথাটি ধরে রেখেছে বলে জানান তিনি।

সমাজের সব স্তরে এটি বজায় আছে এবং তার কোনো প্রতিকার নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রাজকুমারিদের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, রাজকুমারীরা অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বৃহস্পতিবার মামলাটি আদালতে উঠেছে এবং শুক্রবার সকাল থেকে বিবাদী পক্ষের আইনজীবীরা শুনানি শুরু করেছে।

কথিত নিগ্রহের শিকার একজন বেলজীয় টেলিভিশনকে জানান, রাজকুমারীদের ব্যক্তিগত রক্ষীরা সব গৃহকর্মীকে হোটেলের রুমগুলোতে আটকে রাখত এবং বাইরে যেতে বাধা দিত।

দিনের ২৪ ঘন্টার মধ্যে যে কোনো সময় যে কোনো আদেশ পালনের জন্য তাদের প্রস্তুত থাকতে হতো, রাজকুমারীদের ঘরের মেঝেতে ঘুমাতে হতো এবং তাদের উচ্ছিষ্ট খাবার খেতে বাধ্য করা হতো।

যে গৃহকর্মী পালিয়ে এসে অভিযোগ করেছেন, তিনি জানিয়েছেন, তিন দিন ধরে তাকে অভুক্ত রাখা হয়েছিল, এমনকি পানিও দেওয়া হয়নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য