জাতিসংঘের বিচারে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাকে বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যান্য ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলো মধ্যে অধিকাংশের অবস্থান এশিয়া মহাদেশে। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের বাণিজ্যিক শহর মুম্বাই। তৃতীয় অবস্থানে কলম্বিয়ার শহর মেডেলিন এবং চতুর্থ অবস্থানে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা।

জাতিসংঘের বসতিসংক্রান্ত উপাত্ত থেকে তথ্য নিয়ে ব্রিটিশ সংবাদপত্র গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা শহরের প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৪৪,৫০০ জন মানুষ বসবাস করেন।

বিভিন্ন দেশের জাতীয় আদমশুমারি প্রতিবেদন থেকে তথ্য নিয়ে জাতিসংঘের আবাসন-সংক্রান্ত উপাত্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এই হিসাবে শহর বলতে মূল প্রশাসনিক শহর ছাড়াও শহরতলিকেও গণ্য করা হয়েছে। তবে জাতিসংঘের জনসংখ্যাতাত্ত্বিক ইয়ারবুকে শহর বলতে শুধু মূল প্রশাসনিক এলাকা বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। ওই নথি অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল শহর ম্যানিলা। এরপরই প্যারিস।

বাংলাদেশের জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের (নিপোর্ট) তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বর্তমানে ১ কোটি ৬৪ লাখ মানুষ বাস করছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং নিপোর্টের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগর এলাকায় প্রতিদিন ১ হাজার ৪১৮ জন মানুষ বাড়ছে। বছরে যুক্ত হচ্ছে গড়ে ৫ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ মানুষ।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ক্রমেই বাসযোগ্য নগরীর মর্যাদা হারাচ্ছে ৪০০ বছরের পুরোনো ঢাকা। যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে, তাতে আগামী ২০ বছরে ঢাকার জনসংখ্যা আরো ৫০-৬০ শতাংশ বাড়বে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রসপেক্টসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকার জনসংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখ। ২০৩০ সালের মধ্যে তা পৌঁছাবে ২ কোটি ৭৪ লাখে।

অন্যদিকে ব্র্যাক ও কোপেনহেগেন কনসেনসাসের “ঢাকা’স ফিউচার আরবান ট্রান্সপোর্ট: কস্টস অ্যান্ড বেনিফিটস অব ইনভেস্টমেন্ট ইন পাবলিক অ্যান্ড প্রাইভেট ট্রান্সপোর” শীর্ষক যৌথ গবেষণার তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে ঢাকার জনসংখ্যা ১ কোটি ৮০ লাখ। ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ২ কোটি ৬০ লাখে পৌঁছাবে। আর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন রাজউকের ‘ঢাকা স্ট্রাকচারাল প্ল্যানে’ বলা হয়েছে, ২০৩০ সালে ঢাকার জনসংখ্যা দাঁড়াবে ২ কোটি ৭০ লাখে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য