আদালত অবমাননার দায়ে ভারতের সুপ্রীম কোর্ট নজিরবিহীনভাবে কলকাতা হাইকোর্টের ওই বিচারপতিকে ছয় মাসের কারাদন্ড দিয়েছে।

কিন্তু সাজা শোনানোর পর থেকেই আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বিচারপতি সি এস কারনানের।

মঙ্গলবার সুপ্রীম কোর্টের সাত সদস্যের বেঞ্চ যখন ওই শাস্তির আদেশ ঘোষণা করে, সেদিনই ভোরবেলা তিনি কলকাতায় তাঁর সরকারী বাসভবন থেকে চেন্নাই রওনা হয়ে যান।

শীর্ষ আদালতের নির্দেশ আসার পরে পশ্চিমবঙ্গের ডি জি হোমগার্ড রাজ কানোজিয়ার নেতৃত্বে একটি বিশেষ পুলিশ দল বুধবার চেন্নাইতে পৌঁছিয়েছে মি. কারনানকে গ্রেপ্তার করতে। চেন্নাই পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ দলটি বৈঠকও করে।

কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যায় নি বলে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন।

সূত্রগুলি বলছে চেন্নাইতে পৌঁছিয়ে মি. কারনান সেখানকার একটি সরকারী অতিথি নিবাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করছিলেন। সেই সময়েই নির্দেশ পৌঁছয় যে তাঁর বক্তব্য সংবাদ মাধ্যমে প্রচারের ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারী হয়েছে।

তারপরই মি. কারনান নিরুদ্দেশ হয়ে যান। তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলি জানিয়েছে যে পাশ্ববর্তী অন্ধ্র প্রদেশের একটি মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। পুলিশ ওই মন্দিরেও খোঁজ করতে গিয়েছিল। কিন্তু পাওয়া যায় নি বিচারপতি কারনানকে।

তাঁর আইনজীবিদের সঙ্গেও কথা বলেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রগুলি বলছে যে গাড়িটি নিয়ে তিনি চেন্নাই ছেড়েছেন তার সরকারী চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিচারপতি কারনানের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সুপ্রিম কোর্টের এক নির্দেশের পরেই নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয় ভারতের বিচার বিভাগে।

ডাক্তারি পরীক্ষা নাকচ করে বিচারপতি কারনান সুপ্রিম কোর্ট সহ বিভিন্ন আদালতের ২০ জন বিচারকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ জানান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

তারপরেই তাঁর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করে। একাধিকবার মি. কারনানকে আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি উপস্থিত না হওয়ায় আগেই জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য