কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর ভারতীয় ও পাকিস্তানি বাহিনীর পাল্টাপাল্টি গুলিবর্ষণে দুইজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, বুধবার রাতে জম্মু ও কাশ্মিরের নওশেরা সেক্টরে নিয়ন্ত্রণ রেখার অপর দিক থেকে পাকিস্তানিদের গুলিবর্ষণে এ নারী নিহত ও অপর এক পুরুষ আহত হয়েছে।

দ্য ডন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোররাতে আজাদ জম্মু ও কাশ্মিরের কয়েকটি গ্রামে নিয়ন্ত্রণ রেখার অপর দিক থেকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গোলাবর্ষণে এক তরুণ নিহত ও অপর তিনজন আহত হয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নওশেরা সেক্টরের রাজৌরি জেলা সংলগ্ন নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপার থেকে পাকিস্তানি সেনারা নির্বিচারে হাল্কা আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলিবর্ষণ ও মর্টারের গোলা নিক্ষেপ করে।

জবাবে ভারতীয় বাহিনী ‘শক্ত ও কার্যকর’ প্রতিরোধ গড়ে তোলে বলে দাবি করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সূত্রগুলো।

অপরদিকে ডনের প্রতিবেদনে আজাদ কাশ্মিরের কোটলি জেলার পুলিশ সুপার চৌধুরি জুলকারনাইন সরফরাজের বরাতে জানানো হয়েছে, রাত প্রায় ২টার সময় ভারতীয় বাহিনীর নিক্ষিপ্ত মর্টারের গোলা সাবজকোট গ্রামের একটি বাড়ির কংক্রিটের ছাদে বিস্ফোরিত হলে ছাদ ভেঙে ঘরের ভিতরে ঘুমন্ত ১৮ বছরের এক তরুণ নিহত ও অপর দুজন আহত হয়।

কোটলির এই গ্রামটি চারহোই সেক্টরের কাছে খুব কাছে বলে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে।

আহত ১৪ বছর বয়সী কিশোর নিহতের ছোট ভাই ও ৮০ বছরের বৃদ্ধা নিহতের দাদি বলে প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে।

একই জেলার খুইরাত্তা সেক্টরের তায়িন গ্রামে ৭৫ বছর বয়সী অপর এক বৃদ্ধও ভারতীয় বাহিনীর গোলায় আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ডন।

সারারাত ধরে দুপক্ষের তীব্র গোলাগুলি বিনিময়ের পর ভোরের দিকে গোলাগুলি কমে আসে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে।

এদিকে কাশ্মিরের ভারতীয় অংশে রাজপুতানা রাইফেলসের ২২ বছর বয়সী লেফটেন্যান্ট উমর ফায়াজকে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা অপহরণ করে নির্যাতনের পর হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

জ্ঞাতি এক ভাইয়ের বিয়েতে যোগ দিতে উমর দক্ষিণ কাশ্মিরের নিজ গ্রাম কুলগাম থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে শোপিয়ানে গিয়েছিল। সেখানে বুধবার রাত ১০টার দিকে বিয়ের আসর থেকে তাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে সন্দেহভাজন তিন বিচ্ছিন্নতাবাদী।

উমরকে জীবিত ছেড়ে দেওয়া হবে আশা করে তার আতঙ্কিত পরিবার ঘটনার বিষয়ে পুলিশকে কিছু জানায়নি। কিন্তু বৃহস্পতিবার ভোরে শোপিয়ানের একটি এলাকায় তার লাশ পাওয়া যায়।

তার শরীরে অনেক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। বন্দুকের বাট দিয়ে তাকে পেটানো হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার তলপেটে ও চিবুকে গুলির ক্ষত দেখা গেছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সহকর্মীরা জানিয়েছেন, ঝুঁকি আছে জানার পরও ছুঁটি কাটাতে নিরস্ত্র অবস্থায় বাড়িতে গিয়েছিল উমর।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য