আজও মজুরী বৈষম্যের শিকার সৈয়দপুর উপজেলার নারী শ্রমিকেরা। একই কাজ একই সাথে নারী পুরুষ উভয়েই করলেও মজুরির বেলায় নারী শ্রমিকদের বেতন পুরুষ শ্রমিকের তুলনায় অনেক কম। নারী শ্রমিকেরা বেতন বৈষম্যের শিকার হয়েও চাকুরী হারার ভয়ে কোন প্রকার প্রতিবাদ না করে দিয়ে যাচ্ছে তাদের শ্রম।

উপজেলার অনেক খাবার হোটেল, গুল, সাবান, চিপস, চানাচুর, বিস্কুট, অটো রাইস মিল কোম্পানীতে গিয়ে নারী শ্রমিকের সাথে কথা হলে তাদের মনের ভেতর চাপা ক্ষোভের কথা বেরিয়ে আসে। কতিপয় বোডিং এ কাজ করছে অসামাজিক। সেখানেও মালিক পক্ষ সামান্য অর্থ দিয়ে পুরোটাই হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে।

এদিকে ফ্লাওয়ার মিল, চাতাল, রাজমিস্ত্রির জোগানি এবং কৃষি কাজেও নারী শ্রমিকের মজুরি কম দেওয়া হয়। কেন মজুরী কম দেওয়া হয়ে থাকে সে ব্যাপারে ওই সমস্ত কোম্পানীর মালিক এবং ব্যবস্থাপক কোন সন্তোষজনক জবাব দিতে নারাজ।

তারা বলেন, অতীতকাল থেকে এ নিয়ম চলে আসায় আমরাও তা কাজে লাগাচ্ছি। মজার ব্যাপার হলো হার ভাংগা কাজ করতে গিয়ে যদি কোনো নারী শ্রমিকের সমস্যা হয়। তখন মালিকপক্ষ ফিরেও তাকায় না তাদের দিকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেক নারী শ্রমিক জানান, যখন তাদের কোম্পানিতে সরকারি লোক বা সাংবাদিক আসেন তখন আগেই তাদেরকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। যদি কেউ কোন উল্টাপাল্টা কথা বলেন তাহলে চাকুরী চলে যাবে এমন সতর্কবার্তা।

এজন্য তারা দিনের পর দিন বেতন বৈষম্যের শিকার হলেও প্রতিবাদ না করে জীবিকার দায়ে স্বল্প বেতনেই কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় ওই সব শিল্প কারখানার মালিক নারী শ্রমিকদেরকে স্বল্প বেতন দিয়ে কাজ করিয়ে নিচ্ছে।

হোটেল শ্রমিকের বেলায় নারীরা থাকেন আরও আতংকে। কারণ কখন কার চাকুরী যায় তার নিশ্চয়তা নেই। কাজ করলে বেতন, না করলে উপোস বা চাকুরীচ্যুত।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য