ভারতের প্রধান বিচারপতি জে এস খেহরসহ আট বিচারপতির বিরুদ্ধে কারাদণ্ডের আদেশ দেয়ায় পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে কোলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সি এস কারনানকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে আদালত অবমাননার অভিযোগে বিচারপতি কারনানকে গ্রেফতারের জন্য কোলকাতার পুলিশ প্রধানকে নির্দেশ দিয়েছে।

এর আগে, গতকাল (সোমবার) ভারতের প্রধান বিচারপতি জে এস খেহরসহ আট বিচারপতিকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারপতি সি এস কারনান। তফসিলি জাতি/উপজাতিদের ওপর অত্যাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায় তিনি সুপ্রিম কোর্টের ওই বিচারপতিদের কারাদণ্ড দিয়ে দেন। বিচারপতি কারনান যাদের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন, তাঁরা হলেন প্রধান বিচারপতি জেএস খেহর, বিচারপতি দীপক মিশ্র, বিচারপতি জে চেলামেশ্বর, বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি মদন বি লোকুর, বিচারপতি পিনাকী চন্দ্র ঘোষ, বিচারপতি কুরিয়েন জোসেফ এবং বিচারপতি আর ভানুমতী। এঁদের মধ্যে বিচারপতি ভানুমতী বাদে বাকি সাত জন বিচারপতি একই বেঞ্চের সদস্য।

আদেশে কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে এক লাখ রুপি জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

গত ১০ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জে এস খেহরের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ কারনানের বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। ৩১ মার্চ তাকে আদালতে হাজির করানোর জন্য কোলকাতার পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত। ভারতীয় বিচার বিভাগের ইতিহাসে এর আগে কর্মরত কোনো বিচারপতির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার নজির নেই।

আদালত অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বারবার তলব করা সত্ত্বেও বিচারপতি কারনান সুপ্রিম কোর্টে হাজিরা না দেয়ায় সুপ্রিম কোর্ট ওই আদেশ দেয়।

গত ২৩ জানুয়ারি বিচারপতি কারনান প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বর্তমান ২০ বিচারপতির তালিকা পাঠান এবং বিচারবিভাগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানান। সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি আমলে নেয়ায় তখন বিচারপতি কারনানের সঙ্গে সর্বোচ্চ আদালতের সংঘাত শুরু হয়।

কারনানের অভিযোগ, তিনি ‘দলিত’ হওয়ায় তাকে হেনস্থা করা হচ্ছে। গত ৩১ মার্চ বিচারপতি কারনান সুপ্রিম কোর্টে হাজির হলে প্রধান বিচারপতি তার মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং অন্য বিচারপতিরা তাতে সায় দিয়েছেন বলে বিচারপতি কারনান অভিযোগ করেছেন। সেই নির্দেশনায় একদল চিকিৎসক বিচারপতি কারনানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে গেলে ‘মানসিক অবস্থা পুরোপুরি’ ঠিক বলে তিনি তাদের ফিরিয়ে দেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য