দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের অবৈধ দখলদারদের কড়াল গ্রাসে শহরের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী ঘাগড়া ও গীর্জা ক্যানেল। ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ঘাগড়া ও গীর্জা ক্যানেল এখন অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা আর নোংরা, আবর্জনার স্তুপে পরিনত হয়েছে।

এ কারণে শুধু বর্ষা নয়, শুস্ক মৌসুমেও সামান্য বৃষ্টিতে ময়লা পানিতে সয়লাব  হয়ে যায় পুরো শহর। দীর্ঘদিন জলাবন্ধতা থাকায় ভারসাম্য হারাচ্ছে পরিবেশ, এবং ভোগান্তির শেষ নেই পৌরবাসীর। দেখে বুঝার উপায় নেই, এটা ঘাগড়া না গীর্জা ক্যানেল। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বৃটিশ আমলে খননকৃত প্রায় ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ঘাগড়া ও গীর্জা ক্যানেল এখন নিবির্চার আগ্রাসনের শিকার হয়েছে। দখলের ধারাবাহিকতায় বিলুপ্তির পথে এই ঐতিহ্যবাহী খাল দুটি।

এক সময় স্বচ্ছ পানির উৎস এবং দেশীয় প্রজাতির মাছ চাষ হতো এই খালে। বর্তমানে নোংরা-আবর্জনার স্তুপে দুর্গন্ধে নিঃশ্বাস নেয়ার উপায় নেই। স্কুল কলেজের ছেলে মেয়ে এবং পৌরবাসীর চলাচলে সীমাহিন দুর্ভোগের স্বীকার হলেও পরিস্কার ও সংস্কার করার কোন উদ্যোগ নেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ। দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বরূপ কুমার বকসী বাচ্চু জানান, ঘাগড়া ও গীর্জা ক্যানেল দু’টি এখন মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দাড়িয়েছে।

পানি নিস্কাসনের পরিবর্তে অল্প বৃষ্টিতে ময়লা পানিতে সয়লাব হয়ে যায় দিনাজপুর শহর। ফলে শহরবাসীর দুর্ভোগের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। দিনাজপুরের একজন বিশিষ্ট ঠিকাদার জানান, শহরের ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৩০ থেকে ৪০ বর্গ ফুট প্রস্থ এই ঘাগড়া ও গীর্জা ক্যানেল এখন সংকুচিত হয়ে দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। খালের পাশে ময়লার স্তুপ এবং ভরাট করে বিস্তৃত হচ্ছে শহর।

গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন, ঘর-বাড়ী, দোকান-পাট, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, ক্লাব-সমিতির অফিস ও ধর্মীয় উপাসনালয়। দখলদারদের কারনে এই ক্যানেল দুটির পানি প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে শুধু বর্ষা নয়, শুস্ক মৌসুমেও সামান্য বৃষ্টিপাতে ময়লা পানিতে সয়লাব হচ্ছে এই শহর দীর্ঘদিন থাকছে জলাবন্ধতা। দিনাজপুর পৌর কতৃপক্ষ এটি উদ্ধারে কোন প্রকার পদক্ষেপ গ্রহন করছে না। একদিকে রাস্তা-ঘাটের বেহাল অবস্থা অন্যদিকে সময়মত ড্রেন পরিস্কার না করায় ময়লা পানিতে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে রাস্তা-ঘাট। এছাড়া ড্রেন ও রাস্তার পাশে ময়লা আবর্জনা ফেলে রাখায় শহরবাসীর নাভিশ্বাস উঠেছে।

সব মিলিয়ে বর্তমান মেয়র শহরবাসীর কোন উপকারে আসছে না। পরিবেশবিদ প্রফেসর এম.এ জব্বার জানান, অবিলম্বে রাস্তা-ঘাট, ড্রেন ও খাল দু’টির সংস্কার প্রয়োজন। উচ্ছেদ করা প্রয়োজন অবৈধ স্থাপনা। তা না হলে শহরবাসীর জন্য তা মহাবিপদ ডেকে আনবে।

প্যানেল মেয়র আসাদুজ্জামান ডাবলু জানান, কালের স্বাক্ষী হয়ে টিকে থাকা এই ঘাগড়া ও গীর্জা ক্যানেল এখন অবৈধ দখলদারদের আগ্রাসনের শিকার। এই ক্যানেল দুটি সব মহলের সম্মিলত চেষ্টায় টিকিয়ে রাখতে হবে। এতে শহরবাসীর ভোগান্তি কিছুটা কমবে। দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ক্যানেল দুটির অস্তিত্ব এখন বিপন্ন প্রায়। আমরা খাল দু’টি উদ্ধার ও সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য