গত মাসে আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশে আফগানিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সগুলোর এক যৌথ অভিযানে দেশটির ইসলামিক স্টেট (আইএস) প্রধান আব্দুল হাসিব নিহত হয়েছে।

রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তানের কর্মকর্তা এ কথা নিশ্চিত করে জানান, ২৭ এপ্রিল ওই অভিযানটি চালানো হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় পূর্বসূরি হাফিজ সায়ীদ খান নিহত হওয়ার পর গত বছর হাসিবকে আইএসের প্রধান নিযুক্ত করা হয়।

প্রধান নিযুক্ত হয়েই হাসিব পর পর অনেকগুলো হাই প্রোফাইল হামলার নির্দেশ দেন বলে ধারণা করা হয়। এর মধ্যে ৮ মার্চ কাবুলের মূল সামরিক হাসপাতালে চালানো হামলাটি অন্যতম।

গত মাসে পেন্টাগনের এক মুখপাত্র বলেছিলেন, নানগারহারে আফগানিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সগুলোর যৌথ অভিযানে হাসিব সম্ভবত নিহত হয়েছে। ওই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর দুই রেঞ্জার সদস্যও নিহত হয়েছিল।

কিন্তু রোববারের আগে হাসিবের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।

এ দিন কাবুলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সদরদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে আফগানিস্তানে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল জন নিকলসন বলেন, “২০১৭ সালে আইএসআইএস-কে (আইএস-খোরসান) পরাজিত করতে আমাদের বিরতিহীন প্রচেষ্টায় এই সফল যৌথ অভিযান আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”

সংবাদ সম্মেলনে নিকলসন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির একটি পূর্ব ঘোষণার বরাত দিয়ে জানান, ৮ মার্চ কাবুলের মূল সামরিক হাসপাতালে চালানো হামলাটি পরিচালনা করেছিল হাসিব। তার নির্দেশনায় একদল জঙ্গি চিকিৎসকের ছদ্মবেশ ধরে হাসপাতালটিতে প্রবেশ করে বহু চিকিৎসা কর্মী ও রোগীকে হত্যা করেছিল।

এছাড়া স্থানীয় বয়োবৃদ্ধদের তাদের পরিবারের সদস্যদের সামনে শিরশ্ছেদ করার ও আইএসের সদস্যদের সঙ্গে জোর করে বিয়ে দেয়ার জন্য নারী ও বালিকাদের অপহরণ করার নির্দেশ দিয়েছিল হাসিব, জানান নিকলসন।

ইসলামিক স্টেট (আইএস) আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেট খোরসান (আইএস-কে) নামেও পরিচিত। খোরসান আফগানিস্তানের পুরনো নাম।

এই জঙ্গিগোষ্ঠীটিতে যোগ দেওয়া স্থানীয়রা ২০১৫ সাল থেকে সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা আফগানিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীগুলোর সঙ্গে লড়াই করার পাশাপাশি তালেবানদের সঙ্গেও লড়াই শুরু করে।

ইরাক ও সিরিয়ার আইএসের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ আছে বলে ধারণা করা হয়। তারপরও আফগানিস্তানে এর স্বাধীনভাবেই অভিযান পরিচালনা করে থাকে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

কাবুলের সামরিক হাসপাতালে হামলার পর থেকে ড্রোন ও আকাশ পথের অন্যান্য সামর্থ্যের সুবিধা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তানের স্পেশাল ফোর্সগুলো আইএস-কে এর বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করে। এ অভিযানে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী নানগারহার প্রদেশে বহু আইএস জঙ্গিকে হত্যা করা হয়।

এই অভিযানের ধারাবাহিকতায় ১৩ এপ্রিল নানগারহারের আচিন জেলার পার্বত্য এলাকায় আইএস-কে এর একটি ঘাঁটিতে অপারমাণবিক সবচেয়ে বড় বোমার হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

‘মাদার অব অল বোম্বস’ (এমওএবি) নামে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের ওই একটি বোমায় পাহাড়ি টানেল নেটওয়ার্ক ও সুড়ুঙ্গের মধ্যে অবস্থিত আইএসের পুরো ঘাঁটিটি ধ্বংস হয়ে যায় ও চার কমান্ডারসহ অন্তত ৯৪ জঙ্গি নিহত হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য