মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর থেকেঃ দিনাজপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে অপহরণ মামলা করে হোটেলে ফেরার পথে মামলার বাদীকে অপহরণ করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়েছে। সেই সাথে অভিযোগ করার পরেও পুলিশের নিরব ভমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

রোববার (৭ মে) বিকেলে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জাকারিয়া হাবিব।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নারায়নগঞ্জ জেলা ফতুল্লাহ উপজেলার পাগলার বাজার নিউ মডেল শান্তি নিবাস এলাকার  মো. নজরুল ইসলাম খান’র ছেলে মো. আবু সাঈদ খান (৩৩) দিনাজপুর সদর উপজেলার পুলহাট বিসিক এলাকায় অবস্থিত  আবু রায়হান রানার (৪৮) মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান “রাইদা এগ্রো ফুড্স লিমিটেড” এ চাকরী করতো।

মালিকের আদেশ মোতাবেক আবু সাইদ খান নারায়নগঞ্জের ঝর্ণা ট্রেডার্সসহ বিভিন্ন চালের দোকানে চাল সরবরাহ করতো। গত ২৮ এপ্রিল-২০১৭ তারিখ সকাল আনুমানিক ৭টার সময় মালিকের নির্দেশ মোবাবেক বাড়ী হতে বের হওয়ার পর আর বাড়ীতে ফিরে আসেনি। অনেক খোঁজাখুজির পরেও কোন সন্ধান পেয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। যার নম্বর-১৬৬৩, তারিখ ৩০-০৪-১৭।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, গত ১ মে সকাল আনুমানিক ৯টার সময় এন্টারনেট কলে অজ্ঞাত ব্যক্তির মাধ্যমে জানতে পারেন যে, আবু সাঈদকে তাঁর মালিক আবু রায়হান রানা দিনাজপুরের ফুলবাড়ী এলাকায় ৬/৭ জন মিলে জোরপূর্বক আটক করে রেখে ১০ (দশ লক্ষ) টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। উপায়ান্তর না পেয়ে আবু সাঈদের পিতা বাদী নজরুল তাঁর মেঝো ছেলে মো. পলাশ (২৭) ও জামাতা আনোয়ার হোসেন মাতবরকে (২৯) ২ লক্ষ টাকা দিয়ে আবু সাঈদকে উদ্ধার জন্য আটককারীদের দেয়া ঠিকানায় পাঠায়।

ওইদিন রাত ৮টার দিকে তারা দিনাজপুরে পৌঁছে আটককারীদের সাথে যোগাযোগ করলে আবু রায়হান ও তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনী রাত ১১টার সময় ২ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাদেরকেও আকট করে রাখে। পরে মোবাইল ফোনে ঘন ঘন কল দিয়ে আরো ৮ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। মুক্তিপণের টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের ৩ জনের লাশ ভারতের সীমান্তে ফেলে রাখা হবে বলে হুমকি দেয়।

এই ঘটনায় রোববার ৭ মে আবু সাঈদের পিতা মো. নজরুল ইসলাম দিনাজপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১ সদর দিনাজপুরে মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-সিআর ২৫৭/২০১৭। মামলা করে দিনাজপুর শহরের গোলকুঠিস্থ বসুন্ধরা আবাসিক হোটেলে ফেরার পথে হোটেলের পাশ থেকে বিকেল ৩টা দিকে আবু রায়হান রানার সন্ত্রাসী বাহিনী ১০/১২টি মোটরসাইকেলযোগে ফিল্মী স্টাইলে মামলার বাদী নজরুল ইসলামকে (৫৮) তাঁর আইনজীবীদের সামনে অপহরণ করে নিয়ে যায়।  শুধু তাই নয়, নজরুল ইসলামের সঙ্গে থাকা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জাকারিয়া হাবিবকে শারিরিকভাবে লাঞ্চিত করে ও হত্যার হুমকি দিয়ে যায়।

অপরদিকে একের পর এক সংঘঠিত ঘটনাগুলো জানানোর পরও পুলিশ তাদেরকে উদ্ধারের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বাদী নজরুল ইসলামকে অপহনের পর বাদীর মোবাইল নং- ০১৯৩৭২৩২৫০৩ থেকে ফোন করে আরো ১০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। সংবাদ সম্মেলনে তাদের দ্রুত উদ্ধারের দাবী জানিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য