রজব আলী, ফুলবাড়ী থেকেঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বালুমহল ইজারাদার এক ঘাটের ইজারা নিয়ে সারা উপজেলায় বালু উত্তোলন করছে। আর অবৈধ ঘাটের বালু বহন করতে ধবংস হয়ে যাচ্ছে, রাস্তা-ঘাটসহ বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ। এতে হুমকির মধ্যে পড়ছে দুই ইউনিয়নের দশটি গ্রাম।

উপজেলা ভুমি অফিস সুত্রে জানা গেছে, এই উপজেলায় শিবনগর ইউনিয়নের বেলতলি ঘাট ও তার পার্শবর্তী গোপালপুর ঘাট বালুমহল হিসেবে ইজারা দেয়া আছে। বালুমহল ইজারার সর্ত অনুযায়ী এক মাত্র ইজারাকৃত ঘাট ছাড়া অন্য কোথাও বালু উত্তোলন করতে পারবে না। কিন্তু দেখা যায়, বালুমহল ইজারাদার বেলতলি ও গোপালপুর গাট ইজারা নিয়ে সারা উপজেলায় প্রায় ১০টি স্থানে বালু উত্তোলন করছে। এতে সরকার  একদিগে মোটা অংকের রাজস্ব্য হারাচ্ছে, অপরদিকে  অবৈধ ঘাটের বালু বহন করতে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে রাস্তা-ঘাট ও বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধও।

সরজমিনে গিয়ে দেখাযায় উপজেলার খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের মহদিপুর ঘাট, জমিদার পাড়া ঘাট, দৌলতপুর ইউনিয়নের বারাইপাড়া ঘাট, পলিপাড়া ঘাট, হড়হড়িয়া পাড়া ঘাট, তেলিপাড়া ঘাট, ও জানিপুর ঘাটে  শাখা যমুনা নদি থেকে মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, আর সেই বালু ট্রলিতে করে বহন করা হচ্ছে বারাইপাড়া, পলিপাড়া হড়হড়িয়া পাড়ার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধের উপর দিয়ে, এতেকরে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধটি একেবারে ভেঙ্গে গিয়ে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

বারাইপাড়া ঘাট থেকে বালু উত্তোলনকারী বারাইপাড়া গ্রামের বাবলু মিয়া বলেন, তারা বালুমহল ইজারাদার মিন্টু, ফিজারদের সাথে প্রতিট্রলি বছরে ৫০ হাজার টাকা চুক্তিতে বালু উত্তোলন করে, একই কথা বলেন সুমি-মনি পরিবহনের মালিক উজ্জল হোসেন ও খয়েরবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এনামুল হক।

বালু বহনকারীদের সাথে কথা বলে জানাযায়,  খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের মহদিপুর থেকে বালু উত্তোলন করে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু তাহের, উত্তর বারাইপাড়া ঘাট থেকে বালু উত্তোলন করে উত্তর বারাইপাড়া গ্রামের  হাজি তোজাম্মেল হক,  হাজি তোজাম্মেল  হকের ছোট ভাই একরামুল হক, একই এলাকার আমজাদ হোসেন, গড়পিংলাই  গ্রামের আউয়াল হোসেন, হড়হড়িয়া পাড়া ঘাট থেকে আলু উত্তোলন করে দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ মাষ্টার, গড়পিংলাই এর জামিল উদ্দিন, পলিপাড়া ঘাট থেকে বালু উত্তোলন করে সহিদুল ইসলাম, আজিজ চেয়ারম্যানের ভাই মতিয়ার রহমান, জানিপুর ঘাট থেকে বালু উত্তোলন করে সহিদুলসহ চার জন।

তাদের প্রত্যেকের সাতে কথা বলে জানা গেছে, তারা সকলে ইজারাদারের সাথে প্রতিটলি ৫০ হাজার টাকা বছর চুক্তিতে নদি থেকে বালু উত্তোলন করছে। তারা অভিযোগ করে বলেন, টাকা দিতে দেরি হলেই বালুমহল ইজাদারেরা লোকজন নিয়ে এসে তাদের ট্রলি ধরে নিয়ে যায় এবং উপজেলা প্রসাশনের নিকট অবৈধ্য বালু উত্তোলনকারী হিসেবে সোপদ্দঁ করে। এজন্য তারা ইজারাদারকে আগাম টাকা দিয়ে বালু উত্তোলন করছে।

বারাইপাড়া গ্রামের বাসীন্দা নজরুল মাস্টার, পলাশ হােসেন, খয়েরবাড়ী গ্রামের তানজিম হোসেন বলেন, বালু বহনকারী টলির যাতায়াতে রাস্তা-ঘাটসহ বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধ গুলো যে ভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, তাতে সামনে একটু বন্যা হলেই খয়েরবাড়ী ও দৌলতপুর ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রাম ভেসে যাবে। একই কথা বলেন খয়েরবাড়ী বাজারের ব্যবসায়ী নুন্নবী,সুনিল চন্দ্র, মহদিপুর গ্রামের ময়নুর হকসহ অনান্য গ্রামবাসীরা।

এই বিষয়ে বালুব্যবসায়ী ফিজার ও মিন্টুর সাথে যোগাযোগ করলে, তারা বলেন অনেক মূল্য বালু মহল ইজারা নেয়া হয়েছে,ওই বালু ব্যবসায়ীরা প্রতিবছরে তাদের বাড়ীর নিকট বালু তোলে, তাই সামান্ন খরছ নেয়া হয়েছে।

এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এহেতেশাম রেজা বলেন, কেবলমাত্র ইজারা কৃতস্থান ছাড়া, অন্য যে কোন স্থানে বালু উত্তোলন করা অবৈধ, ইজারা কৃত স্থান ছাড়া ইজারাদারও বালু উত্তোলন করতে পারবে না। উপজেলা প্রসাশন সব সময় অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে আসচ্ছে, এই অভিযান চলমান আছে, ইতিমধ্যে অনেক অবৈধ্য বালু উত্তোলন কারীকে আটক করে সাজা ও জরিমানা করা হয়েছে, কিন্তু তারা রাতের অন্ধকারে বালু তুলছে, এইজন্য সব সময় সেখানে যাওয়া সম্ভাব হচ্ছে না। তবে তিনি বলেন প্রত্যক অবৈধ বালু উত্তোলন কারীদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে সাস্তি দিলে ইজাদারের সাথে গোপন চুক্তি ( যদি থাকে), তা ভেঙ্গে যাবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য